আদ্যিকালের বাজার দর॥ দুই পর্বের দ্বিতীয় পর্ব ও শেষ পর্ব॥ তুষারমুখার্জী


প্রথম পর্বে মেসোপটেমিয়ার মাপ ওজন এসব বিশদে লেখা ছিল। আজ আর আলাদা করে তার উল্লেখের দরকার নেই। তবু খুব সংক্ষেপে -
১ সিকেল = ৫০৫ গ্রাম
১ সিলা = ১০ কেজি
হিট্টাইট আইন (১৬৫০-১৫০০ সাধারন পূর্বাব্দ)
হিট্টাইটদের ১(Siqlu)shekel সেকেল (৮.৩৩ গ্রাম)
সেই হিসাবে এখনকার ভারতীয় রূপার মুল্যে ১ সেকেল রূপা হবে (৬৪.৫*৮.৩৩) =৫২৭.২৯ টাকা।

হাম্মুরাবি আর হিট্টাইটদের মাঝে থাকার কথা আসিরীয়দের কাল। আসিরীয়দের নিজস্ব অনেক আইন আছে বটে কিন্তু তাতে বাজার দরের কোন উল্লেখ পেলাম না। তাই চলে গেলাম হিট্টাইটদের আমলে। সুমের থেকে হাম্মুরাবি অবধি বিনিময় অর্থ ছিল রূপা। কিন্তু আসিরীয়দের শেষ দিক থেকে শুরু হয়ে গিয়েছিল রূপা ও তার সাথে সীসারও ব্যবহার। রূপার বদলে সীসার ব্যবহারের প্রচলন দুটো কথা বলে এক হল সার্বিক ভাবে অর্থনীতির অবনতি। তার সাথে ধাতু রূপার আমদানির উৎস সঙ্কুচিত হওয়া, আসিরীয়দের কালে। হিট্টাইটরা অবশ্য রূপাই ব্যবহার করেছে।

॥আইন ও দাম-দর।॥
॥আইন-৫॥ হিট্টাইট ব্যবসায়ীকে বিদেশে হত্যা করলে ৪০০০ সেকেল রূপা জরিমানা। দেশের মধ্যে হত্যা ঘটলে মৃতকে কবর দেবারও দায় বর্তাবে। (এখনকার ভারতীয় বিনিময় মুল্যে ২,১০,৯১৬ টাকা)।

এখানে আমরা উল্লেখ পাই হিট্টাইট ব্যবসায়ী, বা ব্যবসায়ীর জাতিগত পরিচয়। সুমের আমলে এমন কোন উল্লেখ ছিলো না। তখন শুধু ব্যক্তি বলে উল্লেখ থাকত। বোঝা যায় জাতিগত বিভেদ ভাবনার শুরু হয়েছে, গেঁড়ে বসেছে।

॥আইন-৭॥ কোন সাধারন মুক্ত নাগরিকের সাথে মারামারি করে চোখ নষ্ট করলে জরিমানা ৪০ সেকেল রূপা, যদি ইচ্ছাকৃত ভাবে চোখ নষ্ট না করা হয় তবে জরিমানা ২০ সেকেল। (এখনকার ভারতীয় রৌপ্য বিনিময় মুল্যে ২১,০৯২টাকা ও ১০,৫৪৬ টাকা)
(মুক্ত সাধারন নাগরিক অর্থে যে দাস নয় তেমন নাগরিক। আইন অনেক সুক্ষ বিচার করছে। মারামারি করার সময় ইচ্ছে করেও যেমন চোখ নষ্ট করা যেতে পারে তেমনি আচমকা অনিচ্ছাকৃত ভাবে আঘাত লেগেও চোখ নষ্ট হতে পারে। আইন সেটা খেয়াল রাখবে। )

॥আইন-৮॥ কোন দাসের চোখ নষ্ট করলে বা তার দুই তিনটি দাঁত ভেঙ্গে দিলে ২০ সেকেল জরিমানা। তবে এসব যদি অনিচ্ছাকৃত আঘাত থেকে ঘটে তবে জরিমানা হবে ১০ সেকেল।(এখনকার ভারতীয় রৌপ্য বিনিময় মুল্যে ১০,৫৪৬ টাকা ও ৫,২৭৩ টাকা)

॥আইন-৯॥ মুক্ত সাধারন নাগরিকের মাথা ফাটালে জরিমানা ৩ সেকেল রূপা। (এখনকার ভারতীয় রৌপ্য বিনিময় মুল্যে ১৫৮২ টাকা)

॥আইন-১০॥ মাথায় আঘাতের ফলে যদি কেউ কর্ম শক্তি হারায় তবে তার চিকিৎসা করাতে হবে, যতদিন সুস্থ না হবে ততদিন নিজের কাছে রাখতে হবে। সুস্থ হবার পরে আহত ব্যক্তিকে দিতে হবে ১০ সেকেল রূপা। ডাক্তারের ফি ৩ সেকেল রুপাও দিতে হবে আঘাতকারীকে।

(এই আইন অনেক বিশদ। কর্মশক্তি হারালে তার দেখা শোনার সাথে চিকিৎসার খরচটা দিতে হবে, জরিমানাতো আছেই। (জরিমানা এখনকার ভারতীয় রৌপ্য বিনিময় মুল্যে ৫,২৭৩ টাকা। আরেকটি বিষয় এই আইনে জানা গেল ডাক্তারের ফি ৩সেকেল রূপা।(এখনকার ভারতীয় রৌপ্য বিনিময় মুল্যে ১৫৮২ টাকা) মোটেই সস্তা না। এবং ডাক্তারি একটা লাভজনক পেশা হয়ে গেছে।)

॥আইন-১১॥ কারুর হাত বা পা ভেঙ্গে দিলে জরিমানা ২০ সেকেল রূপা। যদি সেই ভাঙ্গা ঠিকমত জোড়া লেগে স্বাভাবিক হয়ে যায় তবে জরিমানা হবে ১০ সেকেল। (এখনকার ভারতীয় রৌপ্য বিনিময় মুল্যে ১০,৫৪৬ টাকা ও ৫,২৭৩ টাকা)

২১০০সাধারন পূর্বাব্দে বা পাঁচ ছয়শ বৎসর আগের সুমের আইনে এই অপরাধে জরিমানা ছিল ৬০ সেকেল রূপা (এখনকার ভারতীয় রৌপ্য বিনিময় মুল্যে ৩২,৫০৮ টাকা। এখন সেটা কমে গেছে। সম্ভবত লোকের মারামারি করার প্রবণতা কমেছে, অথবা অতটাকা জরিমানা দেবার ক্ষমতাই আর নেই। এই লেখার শেষে দেখতে পাবো শেষেরটি সঠিক। লোকের আর্থিক ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে।)

॥আইন ১৩ ॥ মুক্ত নাগরিকের নাক কেটে দিলে জরিমানা ৪০ সেকেল রূপা। আর দাস বা দাসীর কান কাটলে জরিমানা ২০ সেকেল রূপা। (এখনকার ভারতীয় রৌপ্য বিনিময় মুল্যে ২১,০৯২ ও ১০,৫৪৬ টাকা)। পাঁচশ বৎসর আগের সুমের আইনে এই অপরাধের জরিমানা ছিল একই ছিল।


॥সংশোধনি আইন॥ অনেক হিট্টাইট আইনই পরে আবার বদলে সংশোধনি আইন বের করা হয়েছে। এই ক্ষেত্রে নতুন আইনে জরিমানার হার বেড়ে গেছে বহুগুন। মনে হয় এই ধরনের অপরাধ খুব বেশি হচ্ছিল।
॥আইন XII ও XIII ॥ নতুন আইনে নাক কাটলে জরিমানা হবে ১২০০ সেকেল রূপা। এরা দাস হলে ৬০০ সেকেল রূপা।
(এখনকার ভারতীয় রৌপ্য বিনিময় মুল্যে ৬,৩২,৭৬০ ও ৩,১৬,৩৮০ টাকা)
এই পর্যায়ে হিট্টাইট আইনের সংখ্যা ছিল ২০২টি। যার মধ্যে পালিয়ে যাওয়া দাস দাসী খুঁজে বের করার পুরস্কার থেকে ষাঁড় থেকে হাঁস অবধি চুরি করলে বা আহত করলে কি জরিমানা হবে তাও বলা আছে।
 
আর বলা আছে ঘোড়া চুরি করলে কি হবে। কোন বয়সের ঘোড়াকে ঘোড়া বলা হবে, বা বাচ্চা বলা হবে সেসবও বিশদে বলা আছে। এমনকি ঘোড়ার লাগাম চুরি করলে কত জরিমানা হবে সেটাও বলা আছে। এছাড়া পারিবারিক ব্যবসায়িক সামাজিক নানা সমস্যা নিয়েও আইন আছে। সব নিয়ে এখন আলোচনায় যাচ্ছি না।
বাজারদর নিয়ে উল্লেখ যোগ্য কয়েকটি আইন-
॥আইন ১৭২॥ দুর্ভিক্ষের সময় কারুর প্রাণ বাঁচালে পরে তাকে একটি পরিবর্ত লোক দিতে হবে (সম্ভবত দাস বলা হয়েছে)। যদি বেঁচে যাওয়া লোকটি দাস হয় তবে তাকে ১০ সেকেল রূপা দিতে হবে।(এখনকার ভারতীয় রৌপ্য বিনিময় মুল্যে ৫,২৭৩ টাকা)

এই আইন থেকে জানা গেল ১৬০০ থেকে ১৫০০ সাধারন পূর্বাব্দে মেসোপটেমিয়াতে চরম খাদ্যাভাব বা দুর্ভিক্ষ হত। এটা আমার নিজের জানা ছিলো না। যা জানতাম তা হল ১১০০ সাধারন পূর্বাব্দে চরম দুর্ভিক্ষ হয়। সেই সময়ে ঐ এলাকার কোন রাজ্য-সাম্রাজ্য টিকে থাকে নি। ১১৫০ থেকে ১২০০ সাধারন পূর্বাব্দে সবগুলো সাম্রাজ্যের পতন হয়েছিল মাত্র ৫০বৎসরে। একে ঐতিহাসিকরা বলেন গ্রেট ব্রোঞ্জ এজ কোলাপ্স। প্রসঙ্গ ক্রমে মনে করতে পারি ভারতেও হরপ্পা সভ্যতার অবনতির চুড়ান্ত সময় ঐ ১৫০০ থেকে ১১০০ সাধারণ পূর্বাব্দ।

॥আইন ১৮০॥ মাল পরিবহনের ভালো জাতের ঘোড়ার দাম ২০ সেকেল রূপা, জাত ভালো না হলে ১০ সেকেল রুপা।(এখনকার ভারতীয় রৌপ্য বিনিময় মুল্যে ১০,৫৪৬ ও ৫,২৭৩ টাকা)
খচ্চরের দাম ৪০ সেকেল রূপা। (মাল পরিবহনে ঘোড়ার চেয়ে খচ্চর অনেক বেশি কাজের।)
(এখনকার ভারতীয় রৌপ্য বিনিময় মুল্যে ২১,০৯২ টাকা)

পশুপালনের ও পরে বিক্রীর জন্য প্রয়োজনীয় ঘোড়ার দাম ১৫ সেকেল রূপা।
(এখনকার ভারতীয় রৌপ্য বিনিময় মুল্যে ৭,৯০৯ টাকা)

এক বৎসরের বাচ্চা পুরুষ ঘোড়ার দাম ১০ সেকেল রূপা।
(এখনকার ভারতীয় রৌপ্য বিনিময় মুল্যে ৫,২৭৩ টাকা)

এক বৎসরের বাচ্চা ঘোটকীর দাম ১৫ সেকেল রূপা।
(এখনকার ভারতীয় রৌপ্য বিনিময় মুল্যে ৭৯০৯ টাকা)

॥আইন ১৮১॥ 
দুধ খাচ্ছে এমন ঘোটক বা ঘোটকীর দাম ৪ সেকেল রূপা।
(এখনকার ভারতীয় রৌপ্য বিনিময় মুল্যে ২১০৯ টাকা)
বোঝা গেল সহজেই হিট্টাইটদের ঘোড়া ব্যবহার ১৬০০-১৫০০ সাধারণ পূর্বাব্দে একদম সাধারন ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
॥আইন ১৮১॥
৪মিনা তামার দাম ১ সেকেল রূপা।
(১৭৭০ পূর্বাব্দে ১৮০ সেকেল তামার দাম ছিল ১ সেকেল রূপা। হিট্টাইদের হিসাবে ১ মিনা হল ৪০ সেকেল। সেই হিসাবে এই ১৬৫০ - ১৫০০ পূর্বাব্দে তামার দাম তেমন কিছু দাম বাড়েনি, বা রূপার দামও কমেনি)।
১ পাত্র ভোজ্য তেল ২ সেকেল রূপা। (পাত্রে কতটা ধরত তা না জানলে দাম বাড়ল না কমল বোঝা কঠিন।)
১ পাত্র লার্ড ১ সেকেল রূপা। (পাত্রে কতটা ধরত তা না জানলে দাম বাড়ল না কমল বোঝা কঠিন।)
॥আইন ১৮২॥
মোটামুটি ভালো পোষাকের দাম ১২ সেকেল রূপা।
(এখনকার ভারতীয় রৌপ্য বিনিময় মুল্যে ৬,৩২৭ টাকা)
বেশ ভালো পোষাকের দাম – ৪০ সেকেল রূপা।
(এখনকার ভারতীয় রৌপ্য বিনিময় মুল্যে ২১,০৯২ টাকা)
ভীষণ দামি। তবে কিনা একটা ভাল শাড়ী নাকি ৪০ হাজার টাকাও হয়।)
অল্প ছেঁড়া পোষাকের দাম – ৩ সেকেল রূপা।
(এখনকার ভারতীয় রৌপ্য বিনিময় মুল্যে ১৫৮২ টাকা, নাহ্ । সত্যিই দামি। কলকাতার ফুটপাতের মরা সাহেবের না ছেঁড়া সার্ট ১৬০ টাকায় পাওয়া যায় এখনো। )
বস্তার মত মোটা কাপড়ের পোষাকের দাম- ১ সেকেল রূপা
(এখনকার ভারতীয় রৌপ্য বিনিময় মুল্যে ৫২৭ টাকা। ভাবাই যায় না। গরীব লোকেরা কিনতো কি করে?)
ভালো উলের পোষাকের দাম – ২০ সেকেল রূপা।
(এখনকার ভারতীয় রৌপ্য বিনিময় মুল্যে ১০,৫৪০ টাকা।)

হিট্টাইটদের আগে পোষাকের দাম পাইনি। যা দেখা গেল পোষাক ছিল অভাবনীয় রকমের দামী। মনে হয় সাধারন লোক কৌপিন সম্বল করে থাকত। কারণ কি? একটা সরল কারন হতে পারে গরমের দেশে অত পোষাক না পরলেই ভালো থাকা যায়। তাই পোষাকের চাহিদা ছিল এমনিতেই কম।

আর একটা কারন হতে পারে হরপ্পা সভ্যতা এলাকা থেকে তুলা যাওয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তা হলেও এটা জানা আছে যে তিন সাড়ে তিন হাজার বৎসর আগে মেহেরগড়ের তুলার চাষ জর্ডানে হচ্ছিল। তা ছাড়া সুদানেও সম্ভবত নিজস্ব আফ্রিকান ভ্যারাইটির তুলা চাষ হত। যার থেকে পরে বিখ্যাত ইজিপসিয়ান কটনের উৎপত্তি। অবশ্য মিশরের সাথে হিট্টাইটদের সম্পর্ক মোটেই ভালো ছিলো না। যুদ্ধ হত নিয়মিত।
কিন্তু ইতিহাস বইতে আমরা পড়েছি হিট্টাইটরা তখনকার অন্যতম উন্নত জাতি ছিল। তারা লোহার ব্যবহার ঘোড়ার ব্যবহারে ছিল অগ্রনী। তবে কি তারা বা তাদের সেনারা কৌপিন পরেই যুদ্ধে নামত? বিচিত্র ভাবনা।

টিভি সিরিয়ালের কথা বা পরে আঁকা নানা ছবির কথা বাদ দিলে ভারতের সেনারা কি পোষাক পরত? সেনারা তো সাধরনত কৃষক। কৃষিকাজের অবসরে বা অভাবে যুদ্ধ করত। তাহলে তাদের পোষাকটাও ঐ কৃষক সুলভই হবার কথা। কৌপিন সম্বল। যা ভারতের আবহাওয়ার পক্ষে সবচেয়ে আরামদায়ক।
যুদ্ধের সময় রাজারা সেনাদের জার্সি সরবরাহ করত এমনটা আমার জানা নেই। ভারতে প্রাচীণতম যুদ্ধের পোষাকের বর্ণনা পেয়েছি দশ রাজনের যুদ্ধে। সুদাস তথা বশিষ্ট মুনির পক্ষের যোদ্ধাদের পোষাকের বর্ণনা। পরনে সাদা ধুতি-চাদর, মাথার লম্বাচুল ডান দিকে খোঁপা বাঁধা।

॥আইন-১৮৩॥
১৫০ কেজি গমের দাম ১ সেকেল রূপা।
(এখনকার ভারতীয় রৌপ্য বিনিময় মুল্যে ৫২৭ টাকা। বা কেজি হল ৩.৫১ টাকা। মেসোপটেমিয়ায় এই প্রথম গমের দামের উল্লেখ পাওয়া গেল। দাম তো বেশ বেশিই।)
২০০কেজি বার্লি ½ সেকেল রূপা।
(এখনকার ভারতীয় রৌপ্য বিনিময় মুল্যে ২৬৩.৫ টাকা। বা কেজি হল ১.৩২ টাকা। আগে একশ বৎসর আগে এই বার্লির দাম ছিল কেজিতে ৯ পয়সা। বিশাল দাম বেড়েছে। অবশ্য এরই সাথে পেয়েছি দূর্ভিক্ষের উল্লেখ। অর্থাৎ মার্কেট ইকনমি, সাপ্লাই ডিমান্ডের নিয়মেই এই মুল্য বৃদ্ধি।)
৩,৬০০ বর্গমিটার সেচের ব্যবস্থা থাকা জমির দাম ৩ সেকেল রূপা।
(এখনকার ভারতীয় রৌপ্য বিনিময় মুল্যে ১৫৮১ টাকা। বা তখনকার বিনিময় হার ধরলে প্রায় সাড়ে চারশ কেজি গমের দাম। অথবা একটা অল্প ছেঁড়া পোষাকের দাম। যদি জমির দামের বেলাতেও সাপ্লাই ডিমান্ডের কথা ভাবা যায় তবে বলতে হয় চাষের জমি কেনার মত টাকা চাষির হাতে ছিলো না)
৩,৬০০ বর্গ মিটার সেচের ব্যবস্থাহীন জমির দাম ২ সেকেল রূপা।
(এখনকার ভারতীয় রৌপ্য বিনিময় মুল্যে ১০৫৪ টাকা। তখন একটা ছেঁড়া জামাও জুটতো না এই দামে।)

॥আইন-১৮৫॥
৩,৬০০ বর্গমিটার আঙুরের বাগানের দাম ৪০ সেকেল রূপা।
(এখনকার ভারতীয় রৌপ্য বিনিময় মুল্যে ২১,০৮০ টাকা। অন্য চাষের জমির তুলনায় দামী, কিন্তু একটা ভালো পোষাকের দামের সমান। হয়ত খাদ্যশষ্যের চেয়ে আঙুরের চাষে লাভ বেশি হত কিছুটা। সেটাই স্বাভাবিক। তবু একটা পোষাকের দামে একটা আঙুরের বাগান বেশ সস্তা।)

পূর্ণ বয়স্ক ষাঁড়ের চামড়ার দাম ১ সেকেল রূপা।
(এখনকার ভারতীয় রৌপ্য বিনিময় মুল্যে ৫২৭ টাকা। খুবই সস্তা। তবে কি গরু ষাঁড় মারা যেত প্রচুর? অনাবৃষ্টির ফলে দুর্ভিক্ষ হলে ধরে নিতে হবে গবাদি পশুর খাবার ঘাষেরও টান পড়েছে তখন)।
২টো পূর্ণ বয়স্ক ষাঁড়ের মাংসের দাম একটি জ্যান্ত ভেড়া।

(অদ্ভুত এই বিনিময় হার। সুমের আমলে দেখেছি ষাঁড় ভাড়ায় খাটানো হত। এবং সেই ভাড়ার হার বেশ ভালোই ছিল। এবারে দেখছি দুটো ষাঁড়ের বদলে একটি ভেড়া। কারন কি হতে পারে?
একটা ভেড়া কম ঘাস-জল খেয়ে বেঁচে থাকতে পারবে। তারপরেও তার থেকে পাওয়া যাবে উল যা মোটামুটি ভালো দামে বিক্রী করা যাবে। তখন সম্ভবত অনাবৃষ্টির দরুন চাষের কাজটাই কমে গেছে। ফলে চাষের কাজে ষাঁড় লাগছে না আর। তাই তার চাহিদা নেই। কিন্তু পরিবহনের কাজে তো লাগার কথা।
এখানে এসে আরেকটি কথা ভাবা যায়। পরিবহনের কাজে ষাঁড়ের প্রতিদ্বন্দী এসে গেছে ঘোড়া। ফলে ষাঁড়ের কদর কমেছে। খচ্চরের ব্যবহারও ছিল। ভারতেও দেখবো হরপ্পান আমলে ষাঁড়ের ব্যবহার ছিল প্রচুর। কিন্তু পরে, ঘোড়া আসার পরে, ষাঁড়ের কদর কমে বেড়েছে গাভীর কদর। তবে সার্বিক ভাবে অনাবৃষ্টির দরুন ফসল উৎপাদন কমে গেলে পরিবহনের কাজও কমে যাবে। তাতে চাষ আর পরিবহন দুটোতেই ষাঁড়ের ব্যবহার কমবে।

ততদিনে ভারতের লোকেদের সম্ভবত দুধ হজম করার ক্ষমতা অর্জন করা হয়ে গেছে। ফলে ষাঁড়ের চাহিদা কমলেও গাভীর চাহিদা বেড়ে গেছে।
মেহেরগড়ের সমসাময়িক জাগ্রোসের মহিলার জেনেটিক বিশ্লেষণ বলছে দুধ হজম করতে পারতো না। রাখিগড়ির জেনেটিক বিশ্লেষণের ইসারা জাগ্রোস থেকে লোক এসে মেহেরগড়ে বসবাস করত।তাদের দুধ হজম না হলে গাভীর কদর না থাকারই কথা। এই দুধ হজমের ক্ষমতা জন্মেছে কবে সেটা জানা নেই। রাখিগড়ির মহিলা দুধ হজম করতে পারতো কি না আমাদের জানা নেই। হয়ত বা তারো পরে দুধ হজমের ক্ষমতা এসেছে।

এই বাজার দর পর্ব এখানেই শেষ করলাম। কিন্তু হাতের সামনে খোলা আইনের বইটি বেশ মোটা। সেই আইনগুলোর বেশির ভাগই তো তাদের সমাজের নানা সমস্যা ঘিরে।
তাই পরে ফিরে আসবো তখনকার সমাজের খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে। কোন কল্পনার আশ্রয় না নিয়ে তাদের লিখিত আইন ধরে ধরে তাদের সমাজের পরিবারের অন্দরমহলের অনেক কথাই সন্দেহাতীত ভাবে আমরা জানতে পারব। ঠিক যেমন ভাবে তাদের লম্বা সময়ের দূর্ভিক্ষের কথা জানতে পারছি তাদেরই আইন থেকে।
ফিরে আসবো সামাজিক আইন নিয়ে।


তথ্যসূত্রঃ
১. Law Collections from Mesopotamia and Asia Minor_ by T. Roth. (1995)
2. Misc Other minor sources.

Post a comment

0 Comments