দ্য ফ্রিথিঙ্কিং হিউম্যানিস্টসের পক্ষ থেকেইন্দিরা গান্ধী জাতীয় মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (ইগনু) জ্যোতিষশাস্ত্রের পাঠ্যক্রম অবিলম্বে প্রত্যাহার করার দাবি


                  প্রেস বিবৃতি

বিষয়:- ইন্দিরা গান্ধী জাতীয় মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (ইগনু) জ্যোতিষশাস্ত্রের পাঠ্যক্রম অবিলম্বে প্রত্যাহার করার দাবি

ইন্দিরা গান্ধী জাতীয় মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (ইগনু) জ্যোতিষশাস্ত্রে মাস্টার্স অব আর্টস কোর্সটি জানুয়ারী-জুলাই বর্ষে চালু করতে চলছে (এমএ জ্যোতিষ)। দু'বছরের মাস্টার্স প্রোগ্রামটি ইগনুর স্কুল অফ হিউম্যানিটিতে দূরশিক্ষার মাধ্যমে উপলভ্য করানো হবে। দাবী করা হচ্ছে, এই পাঠ্যক্রমটি অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা জ্যোতিষশাস্ত্র এবং বেদঙ্গ সম্পর্কে সম্পূর্ণ জ্ঞান পাবেন। এর সাথে তারা প্রাচীন ভারতের জ্যোতিষ গণিত, তত্ত্ব এবং ফলাফলের ধারণা সম্পর্কেও বিশেষ জ্ঞান অর্জন করবে, যা কর্মক্ষম হওয়ার দক্ষতা বিকাশে সহায়তা করবে।

জ্যোতিষের কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এটি একটি অপবিজ্ঞান। যে বিজ্ঞান গ্রহ, গ্রহাণু এবং নক্ষত্র অধ্যয়ন করে তাকে ‘জ্যোতির্বিজ্ঞান’ বলা হয়। জ্যোতিষে যে রাহু এবং কেতু নামে তারাগুলি কল্পিত হয়, তাদের অস্তিত্বকে সমর্থন করার মতো কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। জ্যোতির্বিজ্ঞানের উপলব্ধ অধ্যয়ন অনুসারে, গ্রহ, গ্রহাণু এবং নক্ষত্রগুলির মানবজীবনে কোনও প্রভাব নেই। আমাদের পৃথিবী থেকে বহু আলোকবর্ষ দূরে থাকা তারাগুলি আমাদের ভাগ্য এবং জীবনকে প্রভাবিত করতে পারে না। জ্যোতিষশাস্ত্র বিজ্ঞান হওয়ার মানদণ্ড কোনভাবেই পূরণ করে না। কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই এমন শিক্ষার মাধ্যমে একটি অবৈজ্ঞানিক ও বিভ্রান্তিময় প্রজন্ম তৈরির চেষ্টা চলছে।

ইগনুর কোর্সটি চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণের মতো মহাকাশীয় ঘটনা সম্পর্কে অজ্ঞতা ও ভয় ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ করবে। বিভিন্ন অবৈজ্ঞানিক তথ্য, ভুল ধারণা যা গ্রহণের সময় দুর্বল খাদ্যাভ্যাসের কারণে বিগত দিনে গর্ভবতী মহিলার মৃত্যু পর্যন্ত ঘটিয়েছিলো! যেখানে জ্যোতিষশাস্ত্রকে বিজ্ঞানের ভিত্তিতে সমাধানের পরামর্শ দেওয়া হয়, তা মানুষের জীবন নিয়ে খেলা ছাড়া আর কিছুই নয়! যদি এই শিক্ষার মূল লক্ষ্যটি হওয়ার কথা সমাজে জ্যোতিষ সম্পর্কিত ভুল ধারণাগুলি মুছে ফেলা এবং অজ্ঞতা থেকে বিজ্ঞানের দিকে অগ্রগতির ইতিহাস। কিন্তু সেইপথে না হেঁটে এটিকে আর্ট কোর্স হিসাবে ব্যবহার করাও বিভ্রান্তিমূলক এবং সঙ্গে কোর্স পরবর্তী ডিগ্রী নিয়ে পেশাদার জ্যোতিষী বানানোর উদ্যোগ সমাজের পক্ষে খুবই বিপদজনক! এই জাতীয় অবৈজ্ঞানিক বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং জ্যোতিষশাস্ত্রের পাঠ্যক্রমগুলি চালু করা আমাদের সাংবিধানিক ৪নং অনুচ্ছেদের ৫১/এইচ, আবশ্যিক পালনীয় দায়িত্ব বা কর্তব্যের "বৈজ্ঞানিক মেজাজের'' পরিপন্থি। এই জাতীয় অবৈজ্ঞানিক বিষয়ে প্রশিক্ষণ এবং বিভ্রান্তিমূলক জ্যোতিষশাস্ত্রের পাঠ্যক্রমগুলি এখুনি  বাতিল করতে হবে। 

আমরা আগেও দেখেছি, ২০০১ সালে অটল বিহারী বাজপেয়ী সরকারের তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী মুরলী মনোহর যোশী  বৈদিক জ্যোতিষ শাস্ত্রকে বিজ্ঞান রূপে সিলেবাসে ঢোকানোর একই রকম সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ব্যাপক বিক্ষোভের পরে এটি প্রত্যাহার করা হয়েছিল। বেনারস ইউনিভার্সিটি ২০১৫ সালেই ইঞ্জিনিয়ারিং এর ছাত্রছাত্রীদের বেদ, পুরাণ, বৈদিক শাস্ত্র, ধর্মানুরাগ শেখানোর দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে সিলেবাসে ঢুকিয়েছে। গত ২০১৮ সালে অল ইন্ডিয়া কাউন্সিল ফর টেকলিক্যাল এডুকেশন (এআইসিটিই) এর নির্দেশিকা অনুযায়ী, ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া গোটা দেশের ছাত্রছাত্রীদের অবশ্যই পড়তে হবে বেদ-পুরাণ। এই ধরনের অবৈজ্ঞানিক চিন্তাভাবনা ছাত্রছাত্রীদের আরও পিছিয়ে দেবে মধ্যযুগীয় কুসংস্কার আর অন্ধবিশ্বাসে। বিজ্ঞানমনস্কতা, যুক্তি, ন্যায্যতা প্রমাণ, মুক্তচিন্তা ও আধুনিকতার ওপরে নামিয়ে আনা হচ্ছে পরিকল্পিত আক্রমণ। বিজ্ঞান ও অন্ধ বিশ্বাসের মধ্যে বিভাজন মুছে ফেলে দেশকে পুরোপুরি হিন্দুরাষ্ট্র বানানোর ছক চলছে। বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদের মধ্যে পরিকল্পিতভাবে অন্ধ বিশ্বাসের বিষয়গুলিকেও ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। 

বিজ্ঞানী থেকে বিভিন্ন বিজ্ঞান সংগঠন এই কোর্সটি প্রবর্তনের বিরুদ্ধে এগিয়ে আসতে সম্মত এবং শীঘ্রই তারা তাদের নিজ নিজ প্ল্যাটফর্মগুলি এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করার জন্য ব্যবহার করবেন।

যেখানে করোনার মহামারীর আবহে বৈজ্ঞানিক মানসিকতা বিকাশের উপর জোর গুরুত্ব দেওয়ার বদলে, সরকার এই ধরনের অবৈজ্ঞানিক বিষয়কে উস্কে দিচ্ছে! যেহেতু শিক্ষাব্যবস্থা কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ কর্মসূচীর মধ্যে পড়ে তাই রাজ্য সরকারগুলিকেও এই জাতীয় অবৈজ্ঞানিক শিক্ষার প্রয়োগ রদ করার দাবী জানানো উচিত। ইগনুর কোর্সটি অবিলম্বে স্থগিতের জন্য দেশজুড়ে আন্দোলনের সাথে সাথে, শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানী, শিক্ষক, জনবিজ্ঞানকর্মীদের স্বাক্ষর সম্বলিত দাবীপত্র মাননীয় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং মানবসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রীর কাছে শীঘ্রই জমা দেওয়া হবে।

ধন্যবাদ ও নমস্কারসহ-

দেবব্রত ব্যানার্জি

দ্য ফ্রিথিংকিং হিউম্যানিস্টস-এর পক্ষ থেকে

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

X

Never Miss an Update!

Join my newsletter to get the latest posts from littlemag.in directly to your inbox.