সব্যসাচী সরকার দ্বারা পুস্তক সমালোচনা ।। মনুশাস্ত্রে নারী ও ব্রাহ্মণ্যবাদঃঃ রণদীপম বসু।।




কেমন কাটছে সময়টা, এ প্রশ্নটি আজ আর করছিনা, কিংবা কেমন আছেন সেটাও জিজ্ঞেস করবোনা; আজ তাই লিখছি।

আজ পড়ে শেষ করলাম রণদীপম বসুর লেখা ‘মনুশাস্ত্রে নারী ও ব্রাহ্মণ্যবাদ’; বইয়ের শুরুর কথাটি লেখক ভাবনাকে যেনো আরো প্রকাশিত করেছে-

“...ভেতরে আমার সতেরোশ’ ডাহুক ডাকে
হতে পারে শুধুই সতেরো, অথবা সতেরো হাজার-
এমন নির্জনে এলে যার কথা মনে পড়ে খুব
যে আমার কষ্টের ক্ষরণ মুছে মুছে বাড়ায় কেবল
সেই তো সে রূপালী...
চেনা চেনা অক্ষরে এতো অচেনা সে-
নাম তার রেখেছিলাম ‘রূপাবলী দে’...।
...যাঁর কাছে এখনো একজন পুরুষ থেকে ক্রমেই মানুষ হবার চেষ্টা করে যাচ্ছি...”

এই কিছু কথা লেখকের লেখক সত্তা ও ব্যক্তি সত্তাকে এক অন্যন্য সম্মিলন দেয় যেনো, যেটা সত্যি দুষ্প্রাপ্য; শ্রদ্ধা জানাই এমন দৃষ্টিভঙ্গিকে;

বইটি পড়তে পড়তে বিচ্ছিন্নভাবে পড়া মনুসংহিতার আসল রূপটা যেনো একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামো পেলো, সহায়ক সমৃদ্ধ গ্রন্থসূচি আর তথ্যের সহজসরল উপস্থাপন বইটি সহজবোধ্যতা পেয়েছে, যেটা যেকোনো পাঠকের প্রত্যাশিত, আর শুদ্ধ বানান আর প্রিন্টিং কোয়ালিটি বইটিকে আরো মনোগ্রাহী করেছে, এরজন্য রিয়াজ খান ভাইকেও ধন্যগুণ🍁জানাতেই হয়;

বইয়ের কথায় আসি, পড়ার সময় একটি চমৎকার বিষয়ও নিশ্চিত হলাম- প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম যতক্ষণ অব্দি ব্যক্তিগত পর্যায়ে থাকে ততক্ষণ যা হতে পারে, যখনই তা ক্ষমতার হাতিয়ার হওয়ার সম্ভাব্যতা পায় তখনই তার প্রথম শিকার নারী ও অশিক্ষিত হতদরিদ্র মানুষ; এখানে নারীকে আলাদাভাবে দেখানোর বড় কারণ- প্রাতিষ্ঠানিক কোনো ধর্মই নারীকে মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করেনি, করেছে একটি উপভোগ্য যৌন যন্ত্র ও আর দিয়েছে পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার আজীবনের দাসত্ব;

বইটি পড়ছিলাম আর পাতায় পাতায় কিভাবে পুরুষতান্ত্রিক চর্চার আঁচড় পড়েছে মানব-ইতিহাসে তা সত্যি লক্ষণীয়; আসলেই মানুষের ইতিহাস পড়তে গেলে সেটা ধর্মের ইতিহাসটাই যেনো জানা হয়; কারণ পুরুষশাসিত সমাজতো ধর্মকেই প্রথম ব্যবহার করতে শিখেছে; আর তার প্রমাণ পাওয়া যায় পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীনতম ভারতীয় দর্শন পড়লে;

চতুর্বেদ-এর নির্যাস নিয়েই মনুসংহিতা রচিত, যা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য তাঁদের অধিকৃত রাষ্ট্র, সমাজ, পরিবারের সংবিধান স্বরূপ; বর্ণবাদ আর নারীকে অবমূল্যায়নের অনুমোদিত শাস্ত্রীয় বিধিনিষেধের এক চমকপ্রদ বর্ণনা মনুসংহিতা জুড়ে; আর্যগণ সৃষ্ট ব্রাহ্মণ্যবাদ কিভাবে সমাজ কাঠামোর রন্ধ্রগত হয়েছে, কিভাবে বর্ণভেদ করে একটি সম্প্রদায়কে আমৃত্যু দাসত্ব মেনে নিতে বাধ্য করেছে তারই একটি দালিলিক প্রমাণ এই মনুসংহিতা; আরো বলে রাখা আবশ্যক “বর্তমানে প্রচলিত প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মগুলোর সবগুলোই তার পূর্ববর্তী প্রাচীনতম ধর্মের ইতিহাস ও গ্রন্থকে মূলগত ধরেই তাদের ধর্মীয় বিধিবদ্ধ নিয়মকানুন তৈরি করেছে, যার কারণে দু'টি বিপরীত আদর্শের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত ধর্মের মাঝে অনেক অন্ত্যমিল পাওয়া যায়, যা স্বতসিদ্ধ”;

বইটি হতে প্রাপ্ত কিছু তথ্য দিচ্ছি, উপলব্ধি করতে পারবেন, কেমন ছিলো মনু’র বেদাশ্রিত আদেশ-

📌লোকানাং তুমি বিবৃদ্ধ্যর্থং মুখবাহূরুপাদতঃ।
ব্রাহ্মণং ক্ষত্রিয়ং বৈশ্যং শূদ্রঞ্চ নিরবর্তয়ৎ।।(১/৩১)
🍾 পৃথিবীর লোকসকলের সমৃদ্ধি কামনায় পরমেশ্বর নিজের মুখ, বাহু, উরু ও পা হতে যথাক্রমে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র- এ ৪টি বর্ণ সৃষ্টি করেছে;
[উল্লেখ্য যে- ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় ও বৈশ্য এই বর্ণের জাতিকে একত্রে দ্বিজ জাতি বলে, এদের প্রত্যেকের চতুর্বেদ অধ্যয়নের অনুমোদন ছিলো, আর শুধুমাত্র ব্রাহ্মণ অধ্যাপনা করতে পারবে; শূদ্রের জন্য তা নিষিদ্ধ ছিলো;]

📌জাতিমাত্রোপজীবী বা কামং স্যাদ্ব্রাহ্মণব্রুবঃ।
ধর্মপ্রবক্তা নৃপতের্ন তু শূদ্রঃ কথঞ্চন।।(৮/২০)
🍾 বিদ্যা ও গুণসম্পন্ন ব্রাহ্মণের অভাব হলে রাজা জাতিমাত্রোপজীবী অর্থাৎ জাতি সর্বস্ব ব্রাহ্মণকে অথবা ক্রিয়ানুষ্ঠানবিহীন ব্রাহ্মণব্রুব’কেও (নামমাত্র ব্রাহ্মণ) নিজের ধর্মপ্রবক্তার পদে নিযুক্ত করবেন, কিন্তু শূদ্র যদি সর্ব গুণসম্পন্ন, ধার্মিক এবং ব্যবহারজ্ঞও হয়, তবুও তাঁকে সে পদে নিয়োগ করতে পারবেননা;

📌যদ্রাষ্ট্রং শূদ্রভূয়ষ্ঠিং নাস্তিকাক্রান্তমদ্বিজম্।
বিনশ্যত্যাশু তৎ কৃৎস্নং দূর্ভিক্ষব্যাধিপীড়িতম্।। (৮/২২)
🍾 যে রাজ্য ধর্মাধিকরণে (বিবাদ নিরূপণের ব্যাপারে) শূদ্রের প্রাধান্য ও নাস্তিকদের প্রভূত্ব, এবং যেখানে দ্বিজগণের অভাব, সেই রাজ্য দুর্ভিক্ষ ও নানারকম রোগে পীড়িত হয়ে অতি শীঘ্রই বিনষ্ট হয়;

📌এতমেব তুমি শূদ্রস্য প্রভুঃ কর্ম সমাদিশৎ।
এতেযামেব বর্ণানং শুশ্রূষামনসূরয়য়া।।(১/৯১)
🍾 প্রভু ব্রহ্মা শূদ্রের জন্য একটি কাজই নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন, তাহলো- কোনো অসূয়া (নিন্দা) না করে, এই তিন বর্ণের (ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় ও বৈশ্য) শুশ্রূষা করা;

📌শক্তেনাপি হি শূদ্রেণ ন কার্যো ধনসঞ্চয়ঃ।
শূদ্রো হি ধনমাসাদ্য ব্রাহ্মণানেব বাধতে।।(১০/১২৯)
🍾 ধন অর্জনে সমর্থ হলেও শূদ্রকে কিছুতেই ধনসঞ্চয় করতে দেয়া চলবেনা, কেননা ধনসঞ্চয় করলে ব্রাহ্মণদের কষ্ট হয়, শাস্ত্রজ্ঞানহীন শূদ্র ধনমদে মত্ত হয়ে ব্রাহ্মণদের পরিচর্যা না করে অবমাননা করতে পারে;

📌উচ্ছিষ্টমন্নং দাতব্যং জীর্ণানি বসনানি চ।
পুলাকাশ্চৈব ধ্যান্যানাং জীর্ণাশ্চৈব পরিচ্ছদাঃ।।(১০/১২৫)
🍾 ব্রাহ্মণ উচ্ছিষ্ট অন্ন, জীর্ণ-পরিত্যক্ত বস্ত্র, ধানের পুলাক (অসার ধান) এবং জীর্ণ পুরাতন পরিচ্ছদ অর্থাৎ শয্যা-আসন প্রভৃতি আশ্রিত শূদ্রকে দেবেন;

📌যেন কেনচিদঙ্গেন হিংস্যাচ্চেৎ শ্রেষ্ঠমন্ত্যজঃ।
ছেত্তব্যং তত্তদেবাস্য তন্মনোরনুশাসনম্।।(৮/২৭৯)
🍾 শূদ্র কিংবা অন্ত্যজ ব্যক্তি (শূদ্র থেকে চণ্ডাল পর্যন্ত নিকৃষ্ট জাতি) দ্বিজ জাতিগণকে যে অঙ্গের দ্বারা পীড়ন করবে তার সেই অঙ্গ ছেদন করে দেবে;

📌শূদ্রং তু কারয়েদ্ দাস্যং ক্রীতমক্রীতমেব বা।
দাস্যায়ৈব হি সৃষ্টোহসৌ ব্রাহ্মণস্য স্বয়ম্ভুবা।।(৮/৪১৩)
🍾 ক্রীত (অন্নাদির দ্বারা প্রতিপালিত) হোক বা অক্রীতই হোক, শূদ্রের দ্বারা ব্রাহ্মণ দাসত্বের কাজ করিয়ে নেবেন, যেহেতু বিধাতা শূদ্রকে ব্রাহ্মণের দাসত্বের জন্যই সৃষ্টি করেছেন;

⏺শাস্ত্রীয় বিধানে শূদ্র বর্ণের জন্য উপনয়ন সংস্কারের বিধান নেই, এরা কখনোই দ্বিজাতি অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ নাই, এরা একজাতি; যদি এক্ষেত্রে শূদ্র কন্যাকে দ্বিজ জাতির কারো সাথে অনুলোম প্রক্রিয়ায় উপভোগ্য হয় তা'হলে সেখান হতে উৎপাদিত সন্তান মাতৃ জাতি হতে কিঞ্চিৎ উৎকৃষ্ট হয়; দ্বিজ জাতির যেকোনো পুরুষ শূদ্র জাতি হতে যেকোনো কন্যাকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করতে পারবে, কিন্তু শূদ্র পুরুষ কর্তৃক এ কর্মকে হীন কর্ম বলে বিবেচনা করতে হবে, এবং তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ;

📌আয়োগবশ্চ ক্ষত্তা চ চাণ্ডালশ্চাধমো নৃণাম্।
প্রাতিলোম্যেন জায়ন্তে শূদ্রাদপসদাস্ত্রয়ঃ।।(১০/১৬)
🍾 শূদ্র পুরুষ থেকে প্রতিলোমক্রমে জাত অর্থাৎ শূদ্র পুরুষের ঔরসে বৈশ্যা স্ত্রী’তে জাত আয়োগব, ক্ষত্রিয়া স্ত্রী’তে জাত ক্ষত্তা এবং ব্রাহ্মণী স্ত্রী’তে জাত চণ্ডাল; এই তিন জাতি পুত্রকাজ করার অযোগ্য; এইজন্য এরা অপসদ (নরাধম) বলে পরিগনিত হবে; আর এদের মাঝে চণ্ডাল হলো অস্পৃশ্য;

📌চণ্ডালশ্বপচানাং তু বহির্গ্রামাৎ প্রতিশ্রয়ঃ।
অপপাত্রাশ্চ কর্তব্যা ধনমেষাং শ্বগর্দভম্।।(১০/৫১)
🍾 চণ্ডাল, শ্বপচ প্রভৃতি জাতির বাসস্থান হবে গ্রামের বাইরে, এইসব জাতিকে ‘অপপাত্র’ করে দিতে হয়; কুকুর ও গাধা হবে তাঁদের ধনস্বরূপ;

📌বাসাংসি মৃতচেলানি ভিন্নভাণ্ডেষু ভোজনম্।
কার্ষ্ণায়সমলঙ্কারঃ পরিব্রজ্যা চ নিত্যশঃ।।(১০/৫২)
🍾 মৃত লোকের কাপড় এদের আচ্ছাদন (পোষাক) হবে; এরা ভাঙা পাত্রে ভোজন করবে, এদের অলঙ্কার হবে লৌহ নির্মিত, এবং এরা সকল সময়ে ভিন্ন ভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াবে;

📌নাস্তি স্ত্রীণাং ক্রিয়া মন্ত্রৈরিতি ধর্মে ব্যবস্থিতিঃ।
নিরিন্দ্রিয়া হ্যমন্ত্রাশ্চ স্ত্রিয়োহনৃতমিতি স্থিতিঃ।।(৯/১৮)
🍾 স্ত্রীলোকদের মন্ত্রপাঠপূর্বক জাতকর্মাদি কোনো ক্রিয়া করার অধিকার নেই, এই হলো ধর্মব্যবস্থা; অর্থাৎ স্মৃতি বা বেদাদি ধর্মশাস্ত্রে এবং মন্ত্রে এদের কোনো অধিকার নেই, এজন্য এরা মিথ্যা বা অপদার্থ, এই হলো শাস্ত্রস্থিতি;

📌ক্ষেত্রভূতা স্মৃতা নারী বীজভূতঃ স্মৃতঃ পুমান্।
ক্ষেত্রবীজসমাযোগাৎ সম্ভবঃ সর্বদেহিনাম্।।(৯/৩৩)
🍾 নারী শস্যক্ষেত্রের মতো, আর পুরুষ শস্যের বীজ স্বরূপ, এই ক্ষেত্র ও বীজের সংযোগে সকল প্রাণীর উৎপত্তি;

📌বীজস্য চৈব যোন্যাশ্চ বীজমুৎকৃষ্টমুচ্যতে।
সর্বভূত প্রসূতির্হি বীজলক্ষণলক্ষিতা।।(৯/৩৪)
🍾 বীজ ও যোনি এই দুটির মধ্যে বীজই শ্রেষ্ঠ বলে কথিত হয়, কারণ সর্বত্র সন্তান বীজের লক্ষণ যুক্ত হয়ে থাকে;

📌অব্যঙ্গাঙ্গীং সৌম্যনাম্নীং হংসবারণগামিনীম্।
তনুলোমকেশদশনাং মৃদ্বঙ্গীমুদ্বহেৎ স্ত্রীয়ম্।।(৩/১০)
🍾 যে নারীর কোনো অঙ্গ বৈকল্য নেই, যাঁর নামটি সৌম্য মানে মধুর, যাঁর গতিভঙ্গি হংস বা হস্তীর মতো, যাঁর লোম, কেশ, ও দন্ত নাতিদীর্ঘ, এবং যাঁর অঙ্গসমূহ মৃদু (কোমলাঙ্গী), এইরকম নারীকেই বিবাহ করবে;

📌যস্যাস্তু ন ভবেদ্ভ্রাতা ন বিজ্ঞায়েত বা (বৈ) পিতা।
নোপযচ্ছেত তাং প্রাজ্ঞঃ পুত্রিকাধর্মশঙ্কয়া।।(৩/১১)
🍾 যে কন্যার কোনো ভ্রাতা নেই, প্রাজ্ঞ ব্যক্তি সেই কন্যাকে পুত্রিকা হওয়ার আশঙ্কায় অথবা যে কন্যার পিতা সম্বন্ধে কিছু জানা যায়না, তাকে জারজ বা মদ্যপব্যক্তির দ্বারা জাত সম্ভাবনায় অধর্ম হওয়ার ভয়ে বিবাহ করবেনা;

📌পিত্রে ন দদ্যাচ্ছুল্কন্তু কন্যামৃতুমতীং হরন্।
স হি স্বাম্যাদতিক্রামেদৃতূনাং প্রতিরোধনাৎ।।(৯/৯৩)
🍾 ঋতুমতী কন্যাকে যে বিবাহ করবে সেই ব্যক্তি কন্যার পিতাকে কোনো শুল্ক দেবেনা, কারণ সেই পিতা কন্যার ঋতু নষ্ট করছেন বলে কন্যার উপর তাঁর যে অধিকার তা হতে তিনি বঞ্চিত হয়েছেন;

📌ত্রিংশদ্বর্ষোদ্বহেৎ কন্যাং হৃদ্যাং দ্বাদশবার্ষিকীম্।
ত্র্যষ্টবর্ষোহষ্টবর্ষাং বা ধর্মে সীদতি সত্বরঃ।।(৯/৯৪)
🍾 ত্রিশ বাসরের পুরুষ বারো বৎসরের, চব্বিশ বৎসরের পুরুষ আট বৎসরের কন্যাকে বিবাহ করবে; তিন গুণের বেশি বয়সের পুরুষ একগুণ বয়স্কা কন্যাকে বিবাহ করবে, এর কমবেশি বয়সে বিবাহ করলে ধর্ম নষ্ট হয়;

📌ন দত্ত্বা কস্যচিৎ কন্যাং পুনর্দদ্যাদ্বিচক্ষণঃ।
দত্ত্বা পুনঃ প্রযচ্ছন্ হি প্রাপ্লোতি পুরুষানৃতাম্।।(৯/৭১)
🍾 যাঁর উদ্দেশ্যে কন্যা বাগদত্তা হবে, তাঁর মৃত্যুর পরও বিচক্ষণ ব্যক্তি নিজের ঐ বাগদত্তা কন্যাকে আবার অন্য পুরুষকে সমর্পণ করবেনা; কারণ ঐভাবে একজনের উদ্দেশ্যে দত্তা কন্যাকে আবার অন্যকে দান করলে পুরুষানৃত প্রাপ্ত হবে, অর্থাৎ যে ব্যক্তি ঐরকম করে তাহলে সমগ্র মানবজাতিকে প্রতারণা করার যে পাপ হয়, সে তার ভাগী হয়;

📌শূদ্রাবেদী পতত্যত্রেরুতথ্যতনয়স্য চ।
শৌনকস্য সুতোৎপত্ত্যা তদপত্যতয়া ভৃগোঃ।।(৩/১৬)
🍾শূদ্রা স্ত্রী বিবাহ করলেই ব্রাহ্মণাদি পতিত হন (অত্রি ও গৌতমমুনি’র মত); শূদ্রা নারীকে বিবাহ করে তাতে সন্তানোৎপাদন করলে ব্রাহ্মণাদি পতিত হয় (শৌনকের মতে); শূদ্রা স্ত্রী’র গর্ভজাত সন্তানের সন্তান হলে ব্রাহ্মণাদি দ্বিজ জাতি পতিত হয় (ভৃগু মতে); আরো উল্লেখ্য যে মেধাতিথি ও গোবিন্দরাজের মতে- কেবলমাত্র ব্রাহ্মণদের শূদ্রা স্ত্রী’র ক্ষেত্রেই এই পাতিত্য বুঝতে হবে; কুল্লুক ভট্টের মতে- দ্বিজ জাতি শূদ্রা স্ত্রী সম্বন্ধেই এই পাতিত্য হবে;

📌শূদ্রাং শয়নমারোপ্য ব্রাহ্মণো যাত্যধোগতিম্।
জনয়িত্বা সুতং তস্যাং ব্রাহ্মণ্যাদেব হীয়তে।।(৩/১৭)
🍾সবর্ণা স্ত্রী বিবাহ না করে শূদ্রা নারীকে প্রথমে বিবাহ করে নিজ শয্যায় গ্রহণ করলে ব্রাহ্মণ অধোগতি (নরক) প্রাপ্ত হন; আবার সেই স্ত্রী’তে সন্তানোৎপাদন করলে তিনি ব্রাহ্মণত্ব থেকে ভ্রষ্ট হয়ে পড়েন; অর্থাৎ- সমানজাতীয় নারী বিবাহ না করে দৈবাৎ শূদ্রা বিবাহ করলেও তাতে সন্তানোৎপাদন করা ব্রাহ্মণের উচিৎ নয়;

📌দৈবপিত্যাতিথেয়ানি তৎপ্রধানানি যস্য তু।
নাশ্লন্তি পিতৃদেবাস্তং ন চ স্বর্গং স গচ্ছতি।।(৩/১৮)
🍾শূদ্রা ভার্যা গ্রহণের পরে যদি ব্রাহ্মণের দৈব্যকর্ম, পিত্র্যকর্ম এবং আতিথেয় কর্ম প্রভৃতিতে শূদ্রা ভার্যার দ্বারা সম্পন্ন হয়, তাহলে সেই দ্রব্য পিতৃপুরুষগণ ও দেবতাগণ ভক্ষণ করেননা, এবং সেই গৃহস্থ ঐসব দেবকর্মাদি নিষ্ফল হয়; অর্থাৎ শূদ্রা নারী ব্রাহ্মণের ভার্যা হয়ে ব্রহ্মভোগের বস্তু হলো ঠিকই, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে স্ত্রী’র কোনো মর্যাদাই তাঁর প্রাপ্য হয়না;

📌উত্তমাং সেবমানস্তু জঘন্যো বধমর্হতি।
শুল্কং দদ্যাৎ সেবমানঃ সমামিচ্ছেৎ পিতা যদি।।(৮/৩৬৩)
🍾কোনো হীনজাতীয় পুরুষ যদি কোনো উচ্চবর্ণের কন্যাকে তাঁর ইচ্ছানুসারেও সম্ভোগ করে, তাহলে সেই পুরুষের বধদণ্ড হবে; কিন্তু নিজের সমানজাতীয় কন্যার সাথে ঐরকম করলে সে ঐ কন্যার পিতাকে শুল্ক দেবে, যদি তাঁর পিতা ঐ শুল্ক নিতে ইচ্ছুক হয়।
অর্থাৎ হীনবর্নীয় পুরুষ কর্তৃক উচ্চবর্ণা নারী  সম্ভোগকারী প্রতিলোম বিবাহকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড; এরকারণ কিন্তু নারীকে বা নারীর কোনো আভিজাত্যকে সম্মুন্নত করা নয়, মূলত ব্রাহ্মণ্যশাস্ত্রের সামাজিক ক্ষমতাকাঠামোয় বর্ণশ্রেষ্ঠ প্রভাব ও আভিজাত্যকে রক্ষা ও নিষ্কণ্টক রাখার খবরদারি নিশ্চিত করা;

📌স্বভাব এষ নারীণাং নরাণামিহ্ দূষণম্।
অতোহর্থান্ন প্রমাদ্যন্তি প্রমদাসু বিপশ্চিতঃ।।(২/২১৩)
🍾 ইহলোকে পুরুষদের দূষিত করাই নারীদের স্বভাব, এই কারণে পণ্ডিতেরা স্ত্রীলোক সম্বন্ধে কখনোই অনবধান হননা;

📌অবিদ্বাংসমলং লোকে বিদ্বাংসমপি বা পুনঃ।
প্রমদা হ্যুৎপথং নেতুং কামক্রোধবশানুগম।।(২/২১৪)
🍾 ইহলোকে কোনো পুরুষ ‘আমি বিদ্বান জিতেন্দ্রিয়’ মনে করে স্ত্রীলোকের সন্নিধানে বাস করবেননা, কারণ বিদ্বানই হোন বা অবিদ্বানই হোন দেহধর্মবশতঃ কামক্রোধের বশীভূত পুরুষকে কামিনীরা অনায়াসে বিপথে নিয়ে যেতে সমর্থ হয়;

📌নৈতা রূপং পরীক্ষন্তে নাসাং বয়সি সংস্থিতিঃ।
গুরূপং বা বিরূপং বা পুমানিত্যেব ভুঞ্জতে।।(৯/১৪)
🍾বস্তুতঃপক্ষে স্ত্রীলোকেরা যে সৌন্দর্যে আসক্ত হয় তা নয় কিংবা পুরুষের বিশেষ বয়সের উপর নির্ভর করে তাও নয়; কিন্তু যাঁর প্রতি আকৃষ্ট হয় সে লোকটি সুরূপই হোক বা কুরূপই হোক তাতে কিছু যায় আসেনা, যেহেতু ব্যক্তিটি পুরুষ এইজন্যই তাঁর প্রতি আসক্ত হয়;

📌শয্যাসনমলঙ্কারং কামং ক্রোধমনার্জবম্।
দ্রোহভাবং কুচর্যাঞ্চ স্ত্রীভ্যো মনুরকল্পয়ৎ।।(৯/১৭)
🍾 বেশি নিদ্রা যাওয়া, কেবল বসে থাকার ইচ্ছা, শরীরকে অলঙ্কৃত করা, কাম অর্থাৎ পুরুষকে ভোগ করার আকাঙ্ক্ষা, অন্যের প্রতি বিদ্বেষ, নীচহৃদয়তা, অন্যের বিরুদ্ধাচরণ করা এবং কুচর্যা অর্থাৎ নীচ পুরুষকে ভজনা করা- এসব স্বভাব মনু এদের সৃষ্টিকালেই করে গিয়েছেন;
অর্থাৎ পুরুষের নিজস্ব দুরাচারকে সুকৌশলে ব্রহ্মবাক্য দিয়ে শেষপর্যন্ত নারীর উপরই চাপিয়ে দেয়া হয়েছে;

📌বালয়া বা যুবত্যা বা বৃদ্ধয়া বাপি যোষিতা।
ন স্বাতস্ত্র্যেণ কর্তব্যং কিঞ্চিৎ কার্যং গৃহেষবপি।।(৫/১৪৭)
🍾স্ত্রীলোক বালিকা হোক, যুবতীই হোক কিংবা বৃদ্ধাই হোক, সে গৃহমধ্যে থেকে কোনো কাজই স্বামী অনুমতি ছাড়া করতে পারবেনা;

📌বাল্যে পিতুর্বশে তিষ্ঠেৎ পাণিগ্রাহস্য যৌবনে।
পুত্রাণাং ভর্তরি প্রেতে ন ভজেৎ স্ত্রী স্বতন্ত্রতাম্।।(৫/১৪৮)
🍾 স্ত্রীলোক বাল্যাবস্থায় পিতার অধীনে থাকবে, যৌবনকালে পাণিগ্রহীতার অর্থাৎ স্বামীর অধীনে থাকবে, এবং স্বামীর মৃত্যু হলে পুত্রদের অধীনে থাকবে; পুত্র না থাকলে স্বামীর সপিণ্ড, স্বামীর সপিণ্ড না থাকলে পিতার সপিণ্ড এবং পিতার সপিণ্ড না থাকলে রাজার বশে থাকবে, কিন্তু কোনো অবস্থাতেই স্ত্রীলোক স্বাধীনতা লাভ করতে পারবেনা;

📌পিত্রা ভর্ত্রা সুতৈর্বাপি নেচ্ছেদ্বিরহমাত্মনঃ।
এষাং হি বিরহেণ স্ত্রী গর্হ্যে কুর্যাদুভে কুলে।।(৫/১৪৯)
🍾 স্ত্রীলোক কখনো পিতা, স্বামী কিংবা পুত্রের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হবেনা, কারণ এদের থেকে বিচ্ছিন্ন থাকলে স্ত্রীলোক পিতৃকুল ও পতিকুল- উভয় কুলকেই কলঙ্কিত করে তোলে;
অর্থাৎ নারীর জীবন মাত্রই পিতা বা স্বামীর কুলের সীমাবদ্ধ, নিজস্ব বলে কোনো কুল নেই, আর এই কুলহীনতাই নারীকে একধরনের সামাজিক সম্পত্তিতে পরিণত করে, ফলে চূড়ান্ত বিচারে নারী পুরুষের অধীনতাই স্বীকার করতে বাধ্য;

📌ন কশ্চিদ্যোষিতঃ শক্তঃ প্রসহ্য পরিরক্ষিতুম্।
এতৈরুপায়যোগৈস্তু শক্যাস্তাঃ পরিরক্ষিতুম্।।(৯/১০)
🍾স্ত্রীলোকসমূহকে কেউ বলপূর্বক বা সংরোধ বা তাড়নাদির দ্বারা রক্ষা করতে পারেনা; কিন্তু বক্ষ্যমাণ উপায়গুলো অবলম্বন করলে তাঁদের রক্ষা করা যায়;

🍷কি সেই উপায়?🤔
📌অর্থস্য সংগ্রেহে চৈনাং ব্যয়ে চৈব নিযোজয়েৎ।
শৌচে ধর্মেহন্নপক্ত্যাঞ্চ পারিণাহ্যস্য বেক্ষণে।।(৯/১১)
🍾টাকাকড়ি ঠিকমতো হিসাব করে জমা রাখা ও খরচ করা, গৃহ ও গৃহস্থালি শুদ্ধ রাখা, ধর্মকর্ম সমূহের আয়োজন করা, অন্নপাক করা এবং শয্যাসনাদির তত্ত্বাবধান করা- এইসব কাজে স্ত্রীলোকদের নিযুক্ত করে অন্যমনস্ক রাখবে;

📌পানং দুর্জনসংসর্গঃ পত্যা চ বিরহোহটনম্।
স্বপ্নোহন্যগেহবাসশ্চ নারীসংদূষণানি ষট্।।(৯/১৩)
🍾 মদ্যপান, দুষ্ট লোকের সাথে মেলামেশা করা, স্বামীর সাথে বিচ্ছেদ, যেখানেসেখানে ঘুরে বেড়ানো এবং পরের বাড়িতে বাস করা- এই ৬টি বিষয় স্ত্রীলোকদের দূষিত করে;

📌যাদৃশং ভজতে হি স্ত্রী সুতং সূতে তথাবিধম্।
তস্মাৎ প্রজাবিশুদ্ধ্যর্থং স্ত্রিয়ং রক্ষেৎ প্রযত্নতঃ।।(৯/৯)
🍾যে পুরুষ শাস্ত্রবিহিত উপায়ে পতি হয়েছে এমন পুরুষকে যে স্ত্রীলোক সেবা করে, সে উৎকৃষ্ট সন্তান প্রসব করে; আর শাস্ত্রনিষিদ্ধ পরপুরুষের সেবায় নিকৃষ্ট সন্তান লাভ হয়; সেইকারণে সন্তানের বিশুদ্ধতা রক্ষায় সর্বপ্রযত্নে যাতে স্ত্রী’র পরপুরুষের সাথে সম্পর্ক না হয়, তারজন্য স্ত্রীকে সকল সময় রক্ষা করা কর্তব্য;

যাবতীয় দুষ্কর্ম্মের দায়ে যেখানে পুরুষ সক্রিয়বাদী, তবুও একপেশে পুরুষবাদে নারীকেই সকল দায়ভার নিতে হবে, অন্যায়ভাবে তা বহন করতে হবে;

🍷স্ত্রীলোকের কর্তব্য কি?🤔
📌অপত্যং ধর্মকার্যাণি শুশ্রূষা রতিরুত্তমা।
দারাধীনস্তুথা স্বর্গঃ পিতৃণাম্যত্মনশ্চ হ।।(৯/২৮)
🍾 সন্তানোৎপাদন, অগ্নিহোত্রাদি ধর্মকর্ম সম্পাদন, পরিচর্যা, উত্তম রতি, পিতৃগণের এবং স্বামীর নিজের সন্তানের মাধ্যমে স্বর্গলাভ- এসবই কাজ পত্নীর দ্বারাই নিষ্পন্ন হয়;

📌অনৃতাবৃতুকালে চ মন্ত্রসংস্কারকৃৎ পতিঃ।
সুখস্য নিত্যং দাতেহ পরলোকে চ যোষিতঃ।।(৫/১৫৩)
🍾পতি মন্ত্রের মাধ্যমে বিবাহ সংস্কার করেন, তাই তিনি ঋতুকালেই হোক বা ঋতু ভিন্ন কালেই হোক, ভার্যাতে গমন করবেন এবং এইভাবে তিনি স্ত্রীর ইহলোকে ও পরলোকে সকল সময়েই তাঁর সুখ প্রদান করেন;

📌ঋতুকালাভিগামী স্যাৎ স্বদারনিরতঃ সদা।
পর্ববর্জং ব্রজেচ্চৈনাং তদ্ ব্রতো রতিকাম্যয়া।।(৩/৪৫)
🍾ঋতুকালে অবশ্যই পত্নীর সাথে মিলিত হবে, সকল সময় পত্নীর প্রতি অনুরক্ত থাকবে; পত্নীর রতিকামনা হলে তা পূরণ করার জন্য পর্বদিন বাদ দিয়ে ঋতুকাল ছাড়াও অন্য দিনে স্ত্রীর সাথে উপগত হতে পারবে;
বিঃদ্রঃ পর্বদিন হচ্ছে- অমাবস্যা, অষ্টমী, পৌর্ণমাসী, চতুর্দশী প্রভৃতি;

📌যুগ্মাসু পুত্রা জায়ন্তে স্ত্রিয়োহযুগ্মাসু রাত্রিষু।
তস্মাদ্ যুগ্মাসু পুত্রার্থী সংবিশেদার্তবে স্ত্রিয়ম্।।(৩/৪৮)
🍾 দশটি রাত্রির মাঝে যেগুলি যুগ্মরাত্রি অর্থাৎ ষষ্ঠী, অষ্টমী, দশমী, দ্বাদশী, চতুর্দশী ও ষোড়শী এই রাত্রিগুলোতে স্ত্রীগমন করলে পুত্রসন্তান জন্মে; আর পঞ্চমী, সপ্তমী, নবমী, একাদশী, ত্রয়োদশী, পঞ্চদশী প্রভৃতি অযুগ্মরাত্রিতে স্ত্রীগমন করলে কন্যাসন্তান জন্মে; অতএব পুত্রলাভেচ্ছু ব্যক্তি ঋতু কালের মধ্যে যুগ্মরাত্রিতেই স্ত্রীগমন করবে;

📌যদি হি স্ত্রী ন রোচেত পুমাংসং ন প্রমোদয়েৎ।
অপ্রমোদাৎ পুনঃ পুংসঃ প্রজনং ন প্রবর্ততে।।(৩/৬১)
🍾শোভাজনক বস্ত্র-আভরণাদির দ্বারা যদি নারী দীপ্তিমতি না হয় তাহলে সেই স্ত্রী পতিকে কোনোরকম আনন্দ দিতে পারেনা, ফলে স্ত্রী পতির প্রীতি জন্মাতে না পারলে সন্তানোৎপাদন সম্ভব হয়না;
অর্থাৎ স্বামীর ইহলোক-পরলোকের মোক্ষলাভ করতে সন্তানোৎপাদনের দায় শেষপর্যন্ত নারীর উপরই বর্তায়;

📌বন্ধ্যাষ্টমেহধিবেদ্যাব্দে দশমে তু মৃতপ্রজা।
একাদশে স্ত্রীজননী সদ্যস্ত্বপ্রিয়বাদিনী।।(৯/৮১)
🍾নারী বন্ধ্যা হলে আদ্য ঋতু দর্শন থেকে অষ্টম বৎসরে, মৃতবৎসা হলে দশম বৎসরে, কেবল কন্যাসন্তান প্রসব করতে থাকলে একাদশ বৎসরে এবং অপ্রিয়বাদিনী হলে সদ্যসদ্যই অধিবেদন অর্থাৎ বিবাহ করবে;

📌যা রোগিণী স্যাৎ তু হিতা সম্পন্না চৈব শীলতাঃ।
সানুজ্ঞাপ্যাধিবেত্তব্যা নাবমান্যা চ কর্হিচিৎ।।(৯/৮২)
🍾 স্ত্রী যদি রোগগ্রস্থ হয় অথচ শীল সম্পন্না এবং স্বামীর হিতকারিণী, তাহলে তাঁর অনুমতি নিয়ে স্বামী অন্য বিবাহ করবে, তাঁকে কোনোক্রমেই অপমান করা যাবেনা;

📌অধিবিন্না তু যা নারী নির্গচ্ছেদ্রুষিতা গৃহাৎ।
সা সদ্যঃ সন্নিরোদ্ধব্যা ত্যাজ্যা বা কুলসন্নিধৌ।।(৯/৮৩)
🍾অধিবেদন করা হয়েছে বলে যে স্ত্রী ক্রোধে গৃহ থেকে চলে যাবে তাকে তখনই গৃহমধ্যে আবদ্ধ করে রাখবে, অথবা তাঁর পিতা প্রভৃতি আত্মীয়ের নিকট রেখে আসবে;

📌ন নিষ্ক্রয়বিসর্গাভ্যাং ভর্তুর্ভার্যা বিমুচ্যতে।
এবং ধর্মং বিজানমিঃ প্রাক্ প্রজাপতিনির্মিতম্।।(৯/৪৬)
🍾দান, বিক্রয় বা পরিত্যাগের দ্বারা ভার্যা স্বামী থেকে সম্বন্ধচ্যুত হতে পারেনা; প্রজাপতি কর্তৃক এইরূপ ধর্মই সৃষ্টিকালে নির্দিষ্ট হয়েছে বলে আমরা জানি;

📌বিশীলঃ কামবৃত্তো বা গুণৈ র্বা পরিবর্জিতঃ।
উপচর্যঃ স্ত্রিয়া সাধ্ব্যা সততং দেববৎ পতিঃ।।(৫/১৫৪)
🍾স্বামী বিশীল (অর্থাৎ জুয়াখেলা প্রভৃতিতে আসক্ত এবং সদাচারশূন্য), কামবৃত্ত (অর্থাৎ অন্য স্ত্রীতে অনুরক্ত) এবং শাস্ত্রোধ্যায়নাদি ও ধনদানাদি গুণবিহীন হলেও সাধ্বী স্ত্রীর কর্তব্য হলো স্বামীকে দেবতার মতো সেবা করা;

📌অপত্যলোভাদ্ যা তু স্ত্রী ভর্তারমতিবর্ততে।
সেহ নিন্দামবাপ্নোতি পতিলোকাচ্চ হীয়তে।।(৫/১৬১)
🍾যে স্ত্রী সন্তানলাভের লোভে স্বামীর অতিবর্তন করে অর্থাৎ স্বামীকে লঙ্ঘন করে এবং পরপুরুষের সাথে সংসর্গ করে সে ইহলোকে নিন্দা বা লোকাপবাদ প্রাপ্ত হয়, এবং স্বর্গলাভ হতে বঞ্চিত হয়;

📌নান্যোৎপন্না প্রজাস্তীহ ন চাপ্যন্যপরিগ্রহে।
ন দ্বিতীয়শ্চ সাধ্বীনাং ক্বচিদ্ভর্তোপদিশ্যতে।।(৫/১৬২)
🍾 (নিয়োগ প্রথা ব্যাতিরেকে) পরপুরুষ দ্বারা উৎপাদিত সন্তান কোনো নারীর নিজ সন্তান হতে পারেনা, সেইরকম যে নারী  নিজের পত্নী নয় তাঁর গর্ভজাত সন্তান কোনো পুরুষের নিজ পুত্র হতে পারেনা; সাধ্বী স্ত্রীদের দ্বিতীয় পতি গ্রহণের উপদেশ নেই;

📌কামং তু ক্ষপয়েদ্দেহং পুষ্পমূলফলৈঃ শুভৈঃ।
ন তু নামাপি গৃহ্নীয়াৎ পত্যৌ প্রেতে পরস্য তু।।(৫/১৫৭)
🍾 পতি মৃত হলে স্ত্রী বরং পবিত্র ফুল-ফল-মূলাদি অল্পাহারের দ্বারা জীবন ক্ষয় করবে, কিন্তু ব্যভিচার বুদ্ধিতে পরপুরুষের নামোচ্চারণও করবেনা;

📌ভার্যায়ৈ পূর্বমারিণ্যৈ দত্ত্বাগ্নীনন্ত্যকর্মণি।
পুনর্দারক্রিয়াং কুর্যাৎ পুনরাধানমেব চ।।(৫/১৬৮)
🍾ভার্যা স্বামীর পূর্বে মারা গেলে তাঁর দাহাদি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পাদন করে পুরুষ পুনরায় দারপরিগ্রহ ও অগ্ন্যাধ্যান করবে; তা না হলে পত্নী নেই বলে বানপ্রস্থ ও সন্ন্যাস অবলম্বন করতে পারে;

📌পৃষ্ঠতন্তু শরীরস্য নোত্তমাঙ্গে কথঞ্চন।
অতোহন্যথা তু প্রহরন্ প্রাপ্তঃ স্যাচ্চৌরকিল্বিষম্।।(৮/৩০০)
🍾রজ্জু প্রভৃতির দ্বারা প্রহার যদি করতে হয় তাহলে শরীরের পশ্চাদভাগে প্রহার কর্তব্য; কখনোই উত্তমাঙ্গে বা মাথায় যেনো প্রহার করা না হয়; এই ব্যবস্থার অন্যথা করে অন্যত্র প্রহার করলে প্রহারকারী চোরের মতো অপরাধী বলে দণ্ডিত হবে;
মূলত দাসী হোক বাঁদী হোক, তবুওতো স্ত্রী, তাঁকে পুরুষ ছাড়াতো চলেনা, তাই শাস্ত্রীয় প্রহারবিধি এটা;

এভাবে বইয়ের পাতায় পাতায় সনাতনী হিন্দুগণের সংবিধান মনুসংহিতা জুড়ে ব্রাহ্মণ্যবাদের জয়গান, আর নারীর প্রতি অবহেলা, নির্যাতন, নিস্পেষণের শাস্ত্রীয় বিধিবিধান বর্ণিত; এ যেনো পুরুষতান্ত্রিক চর্চার একটি প্রাচীনতম দর্শন সংকলন;

বইটি সম্পর্কে এলোমেলো লেখাটি লেখকের বক্তব্য দিয়েই ইতি টানছি- ‘যে মাতৃ নারীর গর্ভ হতে উৎপন্ন পুরুষ, আমৃত্যু মঙ্গলকামী সুহৃদ হিসেবে যে প্রিয়তমাকে সাথে নিয়ে গোটা জীবন পারি দেয় পুরুষ, এবং যে অপত্যস্নেহে কন্যাশিশুটির নিষ্পাপ মুখের দিকে চেয়ে পিতৃবাৎসল্যে ঝলমল করে উঠতে পারে একজন পুরুষ, সেই নারীকে কোনো মানবিক পুরুষ নিজের মতো মানুষ হিসেবে ভাবতে না পারার কোনো কারণ কি থাকতে পারে! যে পুরুষ ভাবতে পারেনা, সে পুরুষ মানুষই হতে পারেনা, আর যে মানুষ হতে না পারা অমানুষের জন্য একটি সুন্দর পৃথিবী এবং মানুষের স্বপ্নময় জীবন নষ্ট হয়ে যাবে, তা কি আদৌ কাম্য কারো?’;

ভালো থাকবেন অনেক, শুভকামনা রইলো, আর পরবর্তী বইপড়া মিশনে নামছি, সে গল্পও করবো, শেষ করে নিই...!🤔🍁🍁🍁

No comments

প্রাচীন ভারতে নারীর অর্থনৈতিক অধিকার ।। রানা চক্রবর্তী

                               বৈদিক সাহিত্য (বিশেষ করে ‘ঋগ্বেদ সংহিতা’) সাধারণ ভাবে সে যুগে ‘নারীর অর্থনৈতিক অবস্থা’ বিষয়ে নীরব।...