বৃহস্পতিবার, ১২ জুলাই, ২০১৮

অযাচিত বাক্যব্যয়...! পর্ব: পন্ডিচেরি'র "অরভিল মাতৃমন্দির" ভ্রমণ-দর্শন...!।। সব্যসাচী সরকার


আমার ভ্রমণ অভিজ্ঞতার জগৎ নেহাতি খুবই ক্ষুদ্র পরিসর জুড়ে; সময়, সুযোগ আর সামর্থ্য- এ ত্রয়ীর মেলবন্ধন আমার জন্য স্বভাবতই কষ্টসাধ্য, কিন্তু কিছুসময় সফল হয়েছি যার জন্য তা হচ্ছে 'প্রবল ইচ্ছে', ঘুরেফিরে দেখার ইচ্ছে।



বাবার ক্যান্সারজনিত চিকিৎসাকে উপলক্ষ করে ভারত গমন; দক্ষিণভারতের তামিলনাড়ু প্রদেশের ভেলোড় জেলায় সিএমসি'তে যাওয়া হয়েছিলো, আর যাত্রা ছিলো ট্রেনে; কারণ ট্রেনে যাত্রার সময় অনেককিছু দেখার সুযোগ হয় জানালার কাচের ওপাশের জগতের; প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলী আর মনোরম রেলস্টেশন গুলো আমাকে বারবার টানে সেখানে যাওয়ার জন্য, ইচ্ছে আছে ভাইজেক ভ্রমণের, শুনেছি অনেক সুন্দর, আর যাত্রা ব্যয় বহনযোগ্যতা আছে একটুআধটু, এজন্যই সাহস দেখাই আর কি।

সিএমসি'তে চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে প্রায় ৫দিনের একটি ছুটিই পাওয়া গেলো (ছুটি বললাম কারণ হাসপাতালে কাজ থাকলে সেটা সেড়ে ফিরতে ফিরতে দিন শেষ হয়ে যেতো!); বাবা-মা আর আমার সহযাত্রী বন্ধুর পরিবারবর্গ'কে রাজি করালাম পন্ডিচেরি ঘুরতে যাওয়ার বিষয়ে; ১দিনের ভ্রমণ যাত্রা শুরু হলো ১১ফেব্রুয়ারি ২০১৮, রবিবার সকাল ০৫:৩০টায়, আর প্রথম লক্ষ্য ছিলো 'অরভিল মাতৃমন্দির', আর আজকের আলোচনা তা নিয়েই...!😊

ভারতে ফরাসী উপনিবেশ গুলোর একটি এই পন্ডিচেরি, এখানে ভ্রমণে আমার কাছে সবথেকে আকর্ষণীয় ও গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে শ্রী অরবিন্দ'র গুণমুগ্ধ সহযোগী ফরাসী নাগরিক মিরা আলফাসো'র প্রতিষ্ঠিত 'মাতৃমন্দির'; শ্রী অরবিন্দ'ই মিরা'কে 'শ্রী মা' বা 'সার্বজনীন মাতা' হিসেবে স্বীকৃতি দেন; মিরা আলফাসো ছিলেন একাধারে আধ্যাত্মিক গুরু, পরাবিদ্যাজ্ঞানসম্পন্ন, দূরদর্শী বিদুষী মহিলা; অরবিন্দ ও মিরা'র যোগবিদ্যা সংক্রান্ত আলোচনাদি ও অনুশীলন Integral Yoga বা সমাকলন যোগ হিসেবে সমাদৃত হয়, যা মাতৃমন্দিরের চর্চিত ভিত্তিমূল বলেই প্রসিদ্ধ।

এখন আলোচনাদি তাত্ত্বিকভাবে বর্ণিত ইংরেজি প্রবন্ধ হতে আমার করা অনুবাদিত বর্ণনা করার চেষ্টা করবো মাতৃমন্দিরের দর্শনগত দৃষ্টিভঙ্গি-
১৯৬৫, জুন মাসের শুরুর দিকে মাতা তাঁর অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন 'মাতৃমন্দির' প্রতিষ্ঠার বিষয়ে, যা হবে পন্ডিচেরি'র উত্তর দিকে; মাতা তাঁর অভিপ্রায়ে বলেন- "একটি সার্বজনীন শহর যেখানে সকল দেশের নারীপুরুষ একসাথে বসবাসে সক্ষম হয় শান্তি, প্রগতিশীলতা ও সহিষ্ণুতার ভিত্তিতে; যেখানে এটি হবে সকল ধর্ম, সকল রাজনীতি এবং সকল জাতীয়তাবাদের ঊর্ধ্বে; অরভিল-এর উদ্দেশ্য হচ্ছে- মানবের একাত্মতাবোধে উজ্জীবিত করা";

শুরুতেই মাতা ব্যাখ্যা করেছিলেন এর মাহাত্ম্য সম্পর্কে, বলেছিলেন- "এই শহরের কেন্দ্র হবে একাত্মতার পীঠস্থান" এবং এই পীঠস্থানকে মাতা বলেছিলেন- "সত্যের আশ্রয়স্থল বা স্বর্গীয় ভালোবাসার আশ্রয়স্থল অথবা মাতার আশ্রয়স্থল"; অবশেষে মাতা এর নামকরণ করেন "মাতৃমন্দির", যা ইংরেজিতে রূপান্তর করলে দাঁড়ায় "The Mother Of Shrine", অর্থাৎ "মাতার মন্দির"; মাতা আরো বলেন- "একাত্মতার পীঠস্থানে ১২টি বাগান হবে, যা মাতার আধ্যাত্মিক চেতনালব্ধ ১২টি বৈশিষ্ট্যের প্রতিনিধিত্ব করবে; এবং তাঁর এই মহান ঐক্যস্থল বা একাত্মতার পীঠস্থান যা মাতৃমন্দির নামে প্রতিষ্ঠিত হবে, সেটির চতুর্দিক জলাধার দ্বারা বেষ্টিত থাকবে।

১৯৬৫ সালের শেষের দিকে মাতা সিদ্ধান্ত নেন যে, ভবিষ্যৎ শহরের ভৌগলিক কেন্দ্র হবে বটবৃক্ষ সম্বলিত একটি বাগান; যদিও ঐসময় নির্বাচিত স্থানটি অনুর্বর ও অনুৎপাদী স্থান হিসেবে পরিত্যক্ত ছিলো।

১৯৬৮সালের শুরুর দিকে মাতা তাঁর ১২টি বাগানের নিম্নরূপ নামকরণ করেন-
(১)অস্তিত্ব বা সত্ত্বা( Existence), (২)চেতনা বা জ্ঞান(Consciousness), (৩)পরম সুখ বা স্বর্গীয় আনন্দ(Bliss), (৪)জ্যোতি বা অগ্নিশিখা(Light), (৫)পরমায়ু বা জীবনধারা(Life), (৬)ক্ষমতা বা কর্মশক্তি(Power), (৭)সম্পদ বা প্রাচুর্য(Wealth), (৮)উপযোগিতা বা কার্যকারিতা(Utility), (৯)অগ্রগমন বা প্রগতি(Progress), (১০)তারুণ্য বা যৌবন(Youth), (১১)ঐক্যতান বা সমন্বয়(Harmony), (১২)পরিপূর্ণতা বা উৎকর্ষতা(Perfection)।

২৮ফেব্রুয়ারি ১৯৬৮'তে অরভিল-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠান হয় একটি শ্বেতবর্ণ সমাধির চতুর্পাশে, যার আকার কমলকোরক বা পদ্মকুঁড়ির ন্যায়, যার কেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড়িয়ে আছে এক বৃহৎ অ্যাম্ফিথিয়েটার-এর মতো; ভারতের প্রতিটি প্রদেশ হতে এবং প্রতিটি দেশ হতে তরুণরাই এ অনুষ্ঠানে প্রতিনিধিত্ব করে, এবং এই আয়োজন স্থলে তাদের উদার দেশপ্রেম, মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসা এবং সম্মান প্রদর্শনমূলক বার্তা উপস্থাপন করে, এবং যথারীতি অরভিল-এর শাসন পত্রানুযায়ী সেখানে ভারতীয় বিভিন্ন ভাষাসহ বিদেশি ভাষায় শিক্ষাদান করার প্রচলন ছিলো এবং এখনো আছে।

১৯৬৯ সালের শেষের দিকে মাতা আমেরিকার হর্টিকালচারিস্ট নারাদ-এর সাথে মাতৃমন্দিরের বাগান শুরু করার বিষয়ে আলোচনা করেন; মাতা বলেন যে- "এ বাগানের সৌন্দর্য এতো বিশাল হবে ও মহান হবে, যখন মানুষ এখানে আসবে যাতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বলে উঠে 'আহা, এইতো!', এই সেই চেতনার বহিঃপ্রকাশ, যা আমরা মানব হৃদয় হতে উদ্ভাসিত করতে চাই" (উল্লেখ করতে দ্বিধা করবোনা যে, আমরাও যখন প্রথম দর্শন করি মাতৃমন্দিরের বাগানগুলো, মুখ দিয়ে অস্ফুটভাবে ও কথাটিই এসেছিলো, 'বাহ্ কি অপরূপ সৌন্দর্যসৃষ্টি'!); মাতা আরো বলেন যে- "আমাদের জানতে হবে চেতনা জতে চেতনাভ্যন্তরে কিভাবে কিভাবে প্রবেশ করতে হয়"।

১৯৭০'রের জানুয়ারি মাসে মাতা একজন ফরাসি স্থপতি রজার এ্যাঙ্গার-এর সাথে মাতৃমন্দিরের গঠনশৈলী বিষয়ে কথা বলেন; মাতা কথা বলেন চেম্বারের অভ্যন্তরীণ গঠন সম্পর্কে এবং শ্রী অরবিন্দ আশ্রমের প্রকৌশলী উদর যে বহির্গঠনের মাপজোখকৃত চিত্র অঙ্কন করেছিলো মাতার ইচ্ছানুসারে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন; মাতা তাকে আরো জানান যে, বাকি বিল্ডিং গুলো কেমন হবে তা সম্পর্কে বিস্তারিত ও স্পষ্ট জানতে চান।

১৯৭০'রের মার্চে, স্থপতি রজার এ্যাঙ্গার চেম্বারের অভ্যন্তরীণ কাঠামে নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন ৫টি মডেল মাতার সামনে উপস্থাপন করেন; মাতা তন্মধ্যে একটি মডেল নির্বাচন করেন, যেটি আংশিক চ্যাপ্টা সূবর্ণগোলক; স্থপতি এর গঠনাকৃতি নিয়ে পরবর্তীতে আরো কাজ করেন।

১৯৭০এ আশ্রমের শিল্পী হোতার প্রশ্নোত্তরে মাতা তাঁর আশ্রমপুত্র আন্দ্রে'কে বলেন যে- "এটি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়ে গেছে এবং স্থির করা হয়েছে যে মাতৃমন্দির জলাধার দ্বারা বেষ্টিত হবে; এখন যদিও জল সহজলভ্য নয়, তবে ভবিষ্যতে তার ব্যবস্থা হবে; এখন মাতৃমন্দির নির্মিত হবে পরিকল্পনানুযায়ী, পরবর্তী কয়েকবছরে এখানে জল নিয়ে আসার ব্যবস্থা করা যাবে"; তবে উল্লেখ্য যে, মাতার জীবদ্দশাতেও জলাধারের আকার ও আকৃতি কোনটিই চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি।

১৯৭১'রের ফেব্রুয়ারি'তে মাতা স্থপতি  রজার-এর প্রস্তাবিত একটি নতুন মডেল অনুমোদন করেন; এই মডেলটি প্রতিনিধিত্ব করে মাতৃমন্দির একটি উপবৃত্তাকার দ্বীপে রয়েছে; মন্দিরটি দেখতে পূর্ণবিকশিত কমলের ন্যায়, যার বৃহৎ ১২টি পাপড়ি সতত প্রকাশমান; এই মডেলের স্থাপত্য কৌশল এবং বহিরাবরণ দ্বীপটিকে এর বনভূমি, ১২টি উদ্যান, অ্যাম্ফিথিয়েটার ইত্যাদির মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত করছে; এই মডেলটি মাতৃমন্দিরের উলম্ব অংশ হিসেবে দেখিয়েছে, কিন্তু তা দশগুণ বড়, অর্থাৎ দৈর্ঘ্যপ্রস্থে যথাক্রমে ৩৬০মিটার ও ২৯০মিটার।


২১ফেব্রুয়ারি ১৯৭১-এ মাতৃমন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়; ৩সপ্তাহ পর ১৪মার্চ হতে খনন কার্যক্রম শুরু হয়; প্রথমে শুধুমাত্র অরভিল-এ বসবাসকারীরা এ খননকাজ শুরু করে, কিন্তু পরবর্তীতে এত বড় খননকাজ দ্রুত করার জন্য স্থানীয় ৪০০শ্রমিককে ভাড়া করা হয়;

১৯৭১-এর প্রথমদিকে বাগানগুলির জন্য প্রয়োজনীয় উদ্ভিদের উদ্ভাবন, গবেষণা এবং প্রচারের জন্য মাতৃমন্দিরের পাশেই নার্সারি স্থাপন করা হয়; নার্সারিতে কর্মরত কর্মীরা মাতৃমন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের বৃহৎ খননকাজের সহায়তা করার জন্য বাগানের কাজ স্থগিত রাখবেন কিনা, এ বিষয়ে মাতাকে প্রশ্ন করা হলে মাতা উত্তর দেন- "না, বাগানগুলো মাতৃমন্দিরের মতোই গুরুত্বপূর্ণ"।





২১ফেব্রুয়ারি ১৯৭২-এ প্রথম কংক্রিটের ভিত্তি স্থাপন করা হয়; মাতা তাঁর এক বার্তায় লিখেছিলেন- "শ্রী অরবিন্দের নির্দেশিত পথে এবং তাঁর প্রদেয় শিক্ষায় মাতৃমন্দির যেন সার্বজনীন মাতার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়"; এবং সে বছরের প্রথমদিকেই মাতা মাতৃমন্দিরের উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম ভিত্তিপ্রস্তর গুলোর নামকরণ করেন মহোত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠা নারীশক্তি মাতৃরূপা- মহাকালী, মহেশ্বরী, মহালক্ষ্মী ও মহাসরস্বতী'র নামানুসারে; এবং ১২টি ধ্যানকক্ষ যেগুলো মাতৃমন্দিরের অভ্যন্তরে ১২টি বৃহৎ পাপড়ির ন্যায় রয়েছে সেগুলি মাতার ১২টি বৈশিষ্ট্য বা গুণ নির্দেশিত করবে; সেগুলো হচ্ছে- (১)আন্তরিকতা( Sincerity), (২)বিনয়(Humility), (৩)কৃতজ্ঞতা(Gratitude), (৪)অধ্যবসায়(Perseverance), (৫)শ্বাসঘাত(Aspiration), (৬)ধারণক্ষমতা(Receptivity), (৭)অগ্রগতি(Progress), (৮)সাহস(Courage), (৯)ধার্মিকতা(Goodness), (১০)উদারতা(Generosity), (১১)সমতা(Equality) এবং (১২)শান্তি(Peace)।

১৭নভেম্বর ১৯৭৩-এ সন্ধ্যা ০৭ঃ২৫-এ মাতৃমন্দিরের চারটি প্রধান কংক্রিটের স্তম্ভ স্থাপন সম্পন্ন হয়, যা আজো মাতৃমন্দিরকে ধারণ করে আছে; ঐদিন ঠিক ঐ সময় মাতা দেহত্যাগ করেন।


মাতৃমন্দির সার্বজনীন মাতার নামে উৎসর্গীকৃত; বিশ্বে বিভিন্ন নামে, বিভিন্ন সংস্কৃতিতে, স্মরণাতীত কাল অবধি মাতার নির্দেশিত পথ জড়িত হবে মানুষের উপলব্ধি ও আরাধনায়; প্রাচীন মিশরীয়রা সার্বজনীন মাতাকে 'Isis' বা 'ইসিস,  ইনকারাবাসীরা ‘Pachamama’ বা 'পঞ্চমামা', জাপানিরা 'Kwannon' বা 'ক্যনওন', হিন্দুরা ' Aditi' বা 'অদিতি', ক্যাথলিকরা ' Virgin Mary' বা 'কুমারী মাতা' ইত্যাদি নামে পূজিত হয়।


মাতৃমন্দির কোন বিশেষ উদ্ভূত শক্তি বা অবতারত্ব অর্জনের জন্য উৎসর্গীকৃত নয়; শ্রী অরবিন্দ 'সার্বজনীন' বা 'মহাজাগতিক' মাতার সাথে 'স্বতন্ত্র মাতৃসত্ত্বা'র মধ্যকার কি পার্থক্য তা ব্যাখ্যা করেছেন; মাতা তা উল্লেখ করলেন- "এটি হবে 'মাতার আশ্রয়স্থল', কিন্তু এটি নয় (যেখানে মাতা নিজেকে বলেছে), মাতা সত্যিকারের মাতা, মাতার নীতি, (আমি বলছি 'মাতা', কারণ শ্রী অরবিন্দ এ শব্দকে ব্যবহার করেছেন, নয়তো আমি অন্যকিছু ব্যবহার করতাম; আমি এখানে হয়তো 'সৃজনশীল নীতি' বা 'উপলব্ধির নীতি' অথবা অন্যকিছু দিয়ে সাজাতাম"; যদি একই সময় একই দলে খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, হিন্দু, শিন্তোই উপস্থিত থাকে, তাহলে অবশ্যই তাদের নামকরণ হতো ভিন্ন নামে।


প্রত্যেকেই হয়তো বলবে নিজস্ব অস্তিত্বের উপস্থিতির ভিত্তিতে, যে তিনি এভাবেই ছিলো, অথবা এমনি ছিলো; সবকিছু বিসদৃশ হওয়া সত্ত্বেও এখানে এক এবং অভিন্ন স্বকীয়তায় প্রকাশিত; আপনি হবেন ভারতের একমাত্র মাতা যাকে দেবোপম মাতা বলেই সবাই জানবে; ক্যাথলিক বলবে এ আমাদের 'কুমারী মাতা', জাপানিরা বলবে ইনি আমাদের 'ক্যনওন দেবী' এবং অন্যান্যরা ভিন্ন নামে ডাকবে; এটি একই শক্তি, একই ক্ষমতা কিন্তু তাদের সম্মুখে যে সমন্বিত চিত্র প্রদর্শিত হবে তা ভিন্নতর, কারণ বিশ্বাসের ভিন্নতা;


আমরা যাকে একমাত্র মাতারূপে আরাধ্য মনে করি তিনি সকল ঐশ্বরিক জ্ঞানের শক্তির নিয়ন্ত্রণ করেন, যা আমাদের অস্তিত্বের উপর প্রভাব বিস্তার করে আছে; তাকে অনুসরণ করা অসম্ভব, যদি না বিচক্ষণ মন এবং এরজন্য স্বাধীনচেতা ও সর্বাধিক বুদ্ধিমত্তা অর্জন আবশ্যক; মাতার আত্মজ্ঞান এবং শক্তি অদ্বিতীয় এবং তাঁর সকল সৃষ্টির ঊর্ধ্বে; কিন্তু কিছু রয়েছে তাঁর পথে যা দেখা যায় এবং অনুভূত হয় তাঁরই প্রতিমূর্তিতে এবং যা অনেক সংকোচনযোগ্য, কারণ এটি অনেক সংজ্ঞায়িত এবং সীমিত মেজাজে, এবং পদক্ষেপে দেবীদের ভূমিকা যাকে তিনি উদ্ভাসিত করেন, সম্মত হন তাঁর সৃষ্টির মধ্যে।


মাতার অস্তিত্বের অংশ হওয়ার ৩টি পথ রয়েছে, যা আপনাকে সচেতন করবে যখন আপনি প্রবেশ করবেন অনন্যতার স্পর্শে, সাথে জ্ঞানশক্তি আমাদের এবং বিশ্বজগতকে একীভূত করবে; মৌলিক পরমশক্তির অতীন্দ্রিয়তার আধার, তিনি বিশ্বজাগতিক ভাবনার ঊর্ধ্বে অবস্থান করেন, এবং অনুদ্ভাসিত রহস্যময় পরমশক্তির সাথে সংযোগ স্থাপন করে; সার্বজনীন মহাজাগতিক মহাশক্তি- তিনি সকল অস্তিত্বের সৃজন করেন, প্রবেশাধিকার সমর্থন দেন এবং লক্ষাধিক প্রক্রিয়া ও শক্তিকে পরিচালিত করেন; স্বতন্ত্রভাবে তিনি শক্তির দুটি বিস্তৃত পথকে তাঁর অস্তিত্বের সাথে একীভূত করেন, সেগুলিকে প্রাণশক্তিপূর্ণ করেন, এবং আমাদের নিকটে নিয়ে আসেন, এবং মানবীয় ব্যক্তিত্ব ও ঐশ্বরিক প্রকৃতির মাঝে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সেতুবন্ধনের সৃজন করেন।


মূল আধ্যাত্মিক শক্তি মাতাকে বিশ্বজগতের ঊর্ধ্বে রেখেছে, এবং তাঁর মধ্যকার শ্বাশত চেতনাই অনন্য ঐশ্বরিক; একক সত্ত্বারূপে মাতা পরমশক্তি ও অনির্বচনীয় অস্তিত্বের আধার; তিনি ধারণ করেন অথবা বলা যেতে পারে গভীর অনুরাগে, কর্মের নিমিত্তে থাকে সত্যদর্শনের প্রতি, যা উদ্ভাসিত হয়েছে; তিনি সেই সত্যোপলব্ধি শক্তিগুলো তাঁর অসীম চেতনজগত হতে রহস্যময় আলোকের আড়াল হতে অবমুক্ত করে নিয়ে আসেন, এবং তাদের প্রদান করেন শৃঙ্খলাময় শক্তি, তাঁর সর্বময় ক্ষমতা এবং তাঁর অসীম জীবনী ধারা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের দেহভান্ড হতে।


অনন্যতায় তাকে উদ্ভাসিত করে সর্বশেষ সচ্চিদানন্দ রূপে; যা তাকে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে একক সত্ত্বারূপে প্রকাশ করেছে; ঈশ্বর শক্তির দ্বৈত চেতনারূপে, পুরুষে প্রকৃতি দ্বৈতনীতি তাঁর কর্তৃক সঞ্চিত হয় এবং পরিকল্পনাগুলিও; দেবতা গণের ক্ষেত্রে তাঁদের শক্তিগুলো মূর্তমান করা, কারণ তাঁর(মাতা'র) জন্য যে এসব হচ্ছে তা নিশ্চিত করা, যা জ্ঞাতজগত ও অজ্ঞাত জগত সম্পর্কিত, যা সবই তাঁর সর্বময়তার খেলা; সবই তাঁর শাশ্বত রহস্যময়তা এবং অসীম অলৌকিকত্বের পূর্ণ প্রকাশ, সবকিছুই তাতে মত্ত, ঐশ্বরিক চেতনা শক্তি তাঁরই অংশজ, এবং বর্ণনাকারীও তিনি; তাঁর সিদ্ধান্ত ও সর্বোচ্চ অনুমোদন ব্যতীত এখানে বা অন্য কোথাও তাঁর কিচ্ছু হতে পারেনা, কোনকিছুই আকৃতি নিতে পারেনা; একমাত্র যা তিনি সর্বময় শক্তি হতে হৃদয়ঙ্গম করে দেন এবং তা নিজস্ব আকৃতি দিয়ে সে বীজবপন করেন, সৃজন হয় পরমানন্দের;


কিন্তু সৃষ্টির জন্য রয়েছে অনেক পরিকল্পনা, অনেকগুলো ধাপ সেই ঐশ্বরিক শক্তির; সেই পূর্ণ বিকশিত হওয়ার সর্বোচ্চ সীমা যেটিতে অসীম অস্তিত্বের বিকাশমানরূপ, চেতনা শক্তি এবং পরমানন্দ যা মাতার সেই সচ্চিদানন্দরূপী শাশ্বত শক্তি সমেত দাঁড়িয়ে আছে; সকল অস্তিত্ব সেখানে বিরাজমান এবং তাঁদের সচলতার রয়েছে ভাষাতীত পূর্ণাঙ্গতা ও অপরিবর্তনীয় একাত্মতা, কারণ মাতা নিজ বাহুতে তাঁদের নিরাপদে বহন করেছেন; আমাদের নিকটবর্তী আধ্যাত্মিক চেতনা জগতে যেথায় মাতা হচ্ছেন ভাবনাতীত আধার রূপী মহাশক্তি; ঐশ্বরিক শক্তির সর্ববিদ্যাবিশারদ এবং জ্ঞানের মহাশক্তি সর্বদা স্বতস্ফূর্তভাবে নির্ভুলতার সাথে কার্যনির্বাহ করে যাচ্ছেন, শাশ্বত ও সতত রূপে; যেখানে প্রতিটি আন্দোলন সত্যের ধাপান্তর, যেখানে সকল অস্তিত্বের আত্মা, শক্তি এবং দেহ স্বর্গীয় আলোয় আলোকিত; আর এ সকল পরম উপলব্ধি হচ্ছে প্রগাঢ় ও পরমানন্দের সমুদ্র ও বন্যার সতত প্রবাহমান তরঙ্গ ন্যায়; কিন্তু আমরা যেখানে বসবাস করছি তা হচ্ছে অজ্ঞান তার বিশ্বজগত, যে বিশ্ব জগতে মন, দেহ এবং জীবন পরম চেতনা জগতের উৎস হতাশ বিচ্ছিন্ন; যে উৎসই হচ্ছে এই পৃথিবীর উল্লেখযোগ্য কেন্দ্র, এবং যা বিবর্তনীয় সত্যের গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতির সম্পাদন ক্ষেত্র; এরজন্য ইহা সকল অন্ধত্ব, সংগ্রাম এবং অপূর্ণতা বা অপূর্ণাঙ্গতা সার্বজনীন মাতা কর্তৃক উদ্ভাসিত হয়, মহাশক্তি কর্তৃক এ গোপনীয় উদ্দেশ্য তাড়িত ও নির্দেশিত হয়।


মাতা, যিনি মহাশক্তির আধার রূপে অজ্ঞানতার ত্রয়ী বিশ্বজগত ও ভাবনাতীত আধ্যাত্মিক আলোকিত জগতের মাঝে পরিকল্পকরূপে দাঁড়িয়ে আছেন, জীবনের সত্য সৃষ্টির সত্য দর্শন তিনি অবনমন করেছেন, এবং চেতনাজগতে দেবদূত গণের অবরোহন ও আরোহন যেন জীবনের উদ্দেশ্য সাধনের পথ হতে বিচ্যুতি ভ্রষ্ট পথিককে পথ দেখায় এবং পুষ্প শোভিত জীবন, আত্মা ও মনের অসীম আধ্যাত্মিক জগতে প্রবেশাধিকারের প্রণোদনা প্রাপ্ত হয়; মহাবিশ্ব মাঝে ঐতিহাসিক বিবর্তনীয় দর্শন তাকে উপলব্ধি প্রদান করেন, তিনি সেখানে শাশ্বত রূপে দাঁড়িয়েছেন ঈশ্বর ও তাঁর নিজস্ব শক্তি ব্যক্তিত্বের অস্তিত্বে, তিনি অধোঃজগতকে পরিচালনা করা, যুদ্ধ করা এবং জয়লাভ করা সহ সব নিয়ন্ত্রণ করেন, কখনো বাহিনী গঠন করে, কখনোবা স্বতন্ত্র রূপে; তিনিই সর্ব চক্রীয় কার্যপ্রদায়ীরূপে বর্তমান সেথায়; এই উদ্ভব গুলো বিভিন্ন স্বর্গীয় আকার এবং ব্যক্তিত্ব, যে পুরুষ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নামে পূজিত হবেন; কিন্তু মাতা প্রস্তুত করেছেন, এবং আকার দিয়েছেন এগুলোকে তাঁর মন ও দেহের বিভূতি দিয়ে; তিনি তাঁদের মন ও দেহতে ঈশ্বর হতে প্রাপ্ত বিভূতিও দিয়েছেন; তিনি জাগতিক বিশ্বজগতকে উদ্ভাসিত করেছেন, মানবচেতনার যে শক্তির বিচ্ছুরন তাঁর হতে প্রাপ্ত, তার গুনগত জ্ঞান ও উপস্থিতি প্রচ্ছন্নভাবে উপস্থিত; পৃথিবী মঞ্চে ঘটিত সকল দৃশ্য একটি নাটকের মতন, যা পরিকল্পিত ও মঞ্চায়িত হচ্ছে মাতা ও তাঁর সহযোগী মহাজাগতিক ঈশ্বর সমন্বয়ে, এবং মাতা'ই সেখানে প্রধান চরিত্র, যা প্রচ্ছন্ন।


এ ছিলো মাতৃমন্দির তত্ত্বের সংক্ষেপিত রূপ; পন্ডিচেরি ভ্রমণ অভিজ্ঞতায় এটি খুবই গুরুত্ব পেয়েছে; কারণ বহু দেশ হতে মানুষ এসেছে সেখানে; যোগ, ধ্যান, অ্যাথলেটদের জন্য রয়েছে বিভিন্ন আয়োজন, এছাড়া পড়ার জন্য গ্রন্থাগার, সাথে বই ক্রয়ের সুযোগও রয়েছে; বিভিন্ন ভাষায় বইয়ের অনুবাদ রয়েছে; এতে সাংস্কৃতিক আদানপ্রদানের একটি উত্তম ক্ষেত্র বলা যেতে পারে মাতৃমন্দিরকে; যেখানে ধর্মে বর্নের ঊর্ধ্বে রেখে নিজেকে প্রকৃতির মাঝে লীন হওয়ার, উপলব্ধি যোগ্যতা বৃদ্ধি ও সহনশীল সত্ত্বাগঠনের জন্য উপযুক্ত; এরপর সেখান হতে শ্রী অরবিন্দ আশ্রম, পন্ডিচেরি সমুদ্রসৈকত, গান্ধী সমুদ্রসৈকত, পন্ডিচেরী জাদুঘর, উদ্যান ভ্রমণ এবং সবশেষে কিছু বই কিনে ফেরা; জ্ঞান গুণে সমৃদ্ধ একটি শহর ভ্রমণ সত্যিই অনুপ্রাণিত করেই শান্তির পথ সৃষ্টির জন্য উদ্যোগটি আবশ্যক, প্রয়োজন ভালো পরিবেশ সৃষ্টির...!

"শ্রী অরবিন্দ আশ্রম ভ্রমণ একটি চমৎকার অভিজ্ঞতা, ভেতরে হাজার ফুলের বাহারি বাগান, তাঁর সামনেই ধ্যানমঞ্চ, যা ঘিরে বসে ভক্তদের নিঃশব্দ ধ্যানাচার, এরপরে পাশেই বিশাল গ্রন্থাগার, বই বিক্রয়ের জন্য, জায়গা ছোট হলেও বইয়ের প্রাচুর্য চোখে পড়ার মতো; জার্মান, ইতালি, ফরাসি, ইংরেজি, ল্যাটিন, তামিল, হিন্দী সহ বহু ভাষায় বই রয়েছে; আমি শ্রী অরবিন্দ-এর লেখা- 'ভারতীয় সংস্কৃতির ভিত্তি, বেদ রহস্য উত্তরার্ধ ও বেদ রহস্য পূর্বার্ধ বই ৩টি কিনেছিলাম, সামর্থ্যে কুলিয়ে উঠলে আরো কিনতাম, কিন্তু দাম অত্যধিক বেশি, কিন্তু প্রিন্ট ও কাগজের মান অনেক ভালো; দেশিবিদেশী পর্যটকেরা এখান হতে বই কিনছে দেখলাম; আর ফরাসী উপনিবেশ হওয়ার দরুন বহু ইউরোপীয় নাগরিক এই পন্ডিচেরিতে স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে রয়েছে বহুদিন যাবত; পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন সমুদ্রসৈকত গুলো, গান্ধী সমুদ্রসৈকতে গ্রানাইট পাথর দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে, যা বেশ সুন্দর; জাদুঘরে প্রতিদিনই বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ভ্রমণ থাকেই, এর উপর এসাইনমেন্ট করতে হয়, কর্তৃপক্ষ চায় তাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম ইতিহাস সম্পর্কিত তথ্যাদি এখন হতেই জানুক, তা নিয়ে নিজেদের ভাবনার প্রকাশ করুক; এই এসাইনমেন্ট গুলোর সাথে নাম্বার যুক্ত থাকে; কত চমৎকার একটি সিস্টেম; ট্রাফিক সিস্টেম অত্যাধুনিক, যেখানে সেখানে গাড়ি দাঁড় করানো যাবেনা, নিয়ম মেনেই সবাই বাড়িঘর নির্মাণ করেছে শহরের ভিতর, প্রশস্ত রাস্তা আর গাছপালা, সাজানো বাড়িঘর সেই ফরাসি উপনিবেশ সময়কালীন, দেখলে ছবির মতে লাগবে; আমার কাছে পুরো ভ্রমনটিই চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে;"

মাতৃমন্দির তৈরি প্রসঙ্গে আমার কিছু বক্তব্য- মাতা মিরা আলফাসো শ্রী অরবিন্দের নির্দেশিত পথকে সুপ্রশস্থ করার লক্ষ্য নিয়েই এটির উদ্যোগ নেন; কেননা সমাকলন যোগ সম্পর্কে শ্রী অরবিন্দ বলেছিলেন- "...জীবন হচ্ছে চেতনার মুক্তির প্রথম পদক্ষেপ, মন হচ্ছে তাঁর দ্বিতীয় ধাপ; কিন্তু মনের সাথে চলমান এ বিবর্তনীয় ধারার সমাপন ঘটেনা, বরং বৃহৎ কিছুর উদ্ভাবনের প্রতীক্ষিত পর্যায় সেটি; চেতনা জগতে সেটি হচ্ছে ঐশ্বরিক এবং অতীন্দ্রিয় পর্যায়ের অনুগমন; আর এর পরবর্তী ধাপে মহামানস ও আত্মার উন্নতি সাধিত হয়, বিবর্তনীয় ধারা সকল শক্তিতে পরিচালিত করার সচেতনতায় উদ্ভাসিত হয়; এ যেনো অস্তিত্ব থেকে আমরা চৈতন্যে আসি, আনন্দ ও মহামানসের মাধ্যমে আমরা নেমে আসি, আবার বস্তু থেকে প্রাণ, আত্মা ও মনের মাধ্যমে আরোহন করি; এই যে যাত্রা বস্তুকে মনের পর্যায়ে আনা আর অস্তিত্বকে মহামানসে নিয়ে আসা; এর মধ্য দিয়ে বস্তুজগত (মন, আত্মা, প্রাণ, ও বস্তু) আলোকিত হয়, যা সমাকলন যোগের মাধ্যমে অর্জিত হয়... ...এ সমাকলন যোগের প্রধান লক্ষ্য আত্মোপলদ্ধির মধ্য দিয়ে আত্মোন্নয়ন, যে এ পথ অনুসরণ করবে সে একটি আবিস্কার করবে বহুর মাঝে একাত্মতা; যার বিবর্তন মানবীয় বৈশিষ্ট্যকে উচ্চ মার্গীয় মনোজাগতিক চৈতন্যে উপস্থাপন করবে, স্বর্গীয় সত্ত্বার সাথে আধ্যাত্মিক ও অতীন্দ্রিয় যোগসূত্র স্থাপন করবে...";

যোগ বিদ্যা নিয়ে আমাদের মধ্যকার প্রচলিত পন্থা গুলোকে অন্যমাত্রায় নিয়ে গিয়েছে শ্রী অরবিন্দ; আর মাতা সে যোগাভ্যাস করার জন্য উপযুক্ত ক্ষেত্র হিসেবে অরভিল'কে বেছে নিয়েছিলেন; কেউ যেন বলতে না পারে এ ক্ষেত্র কারো অধিকৃত, এ এক মহা সমন্বয় উদ্যান বলা যেতে পারে; যেখানে শারীরিক ও মানসিক উন্নতি সাধনের সাথে, সাংগঠনিক ও আধুনিকতার সাথে আধ্যাত্মিকতার মেলবন্ধনের প্রচেষ্টা চলেছে; যেখানে কোন নতুন ধর্ম সৃষ্টি করা হয়নি, কোন ধর্মের সংস্কার করা হয়নি, কোন ধর্মীয় আচার কে বিশেষায়িত করা হয়নি, অথচ বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণ-দেশি-বিদেশি একসাথেই চর্চা করছেন মানবীয় উন্নতির, যেখানে উন্নত শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যাবলি সুনিপুণ ভাবে বহুভাষাভাষির মানুষকে একত্রিত করেছে, সহনশীল করেছে, একাত্মতা সৃষ্টি করেছে, আর সে মহা সমন্বয়ে প্রধান ভূমিকা রেখেছে প্রকৃতির নান্দনিক সৌন্দর্য্য; বহুমত থাকা সত্ত্বেও, ভিন্নদেশের হওয়া সত্ত্বেও, ভিন্ন সংস্কৃতির হওয়া সত্ত্বেও- সমাকলন যোগ চর্চা তাদের একীভূত করেছে; আমি আধ্যাত্মবাদ, পরাবিদ্যা, অলৌকিকত্ত্ব নিয়ে সাফাই গাইছি না, সুস্থ সামাজিক চর্চা একটি সুস্থ সমাজ গঠনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ; ইউরোপীয় সংস্কৃতির ও ভারতীয় সংস্কৃতির মেলবন্ধন, সেখানে আয়োজিত সামগ্রিক পরিবেশ আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে ,আশান্বিত করেছে যে- "সর্ব ধর্ম সমন্বয় আবশ্যক নয়, একটি লক্ষ্যে সমন্বয় সাধন আবশ্যক; বহুমত থাকতে পারে, একটি লক্ষ্যে তা একত্রিত হতে পারে; আর এরজন্য প্রয়োজন সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা, প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা  এবং আধুনিক শিক্ষার বিকাশসাধন"...!









রেফারেন্স ঃ
https://www.auroville.org/contents/2084

কোন মন্তব্য নেই:

শবর কথা || বিপ্লব দাস

কচি সেগুনপাতা ঘষলে রক্তের মতো লাল রস বের হয়। এরকম এক লোককথার সাথে শবরদের অরণ্যে বাস করার কাহিনী জড়িয়ে রয়েছে। শবর এবং অসুরদের স্বর্ণয...