হৃদয় হেরেছে হৃদয়ের-ই ছায়ায় || ভোলানাথ দাস


 

মেঘে ঢেকেছে আকাশ
হয়তো একটু পরেই শুরু হয়ে যাবে বৃষ্টি;
রাস্তা, পুকুর, ডোবা জলে হয়ে যাবে পূর্ণ
কবিরা লিখবে কবিতা, ‘শিল্পীর তুলিতে টান
চারিদিকে শুধু সৃষ্টি, অপূর্ব সৃষ্টি
 
নৌকা নিয়ে মাঝি চলেছে
মুখে ভাটিয়ালী সুর;
অবাক রাতেরতারারা আকাশে
হারিয়ে যাব দূর-বহুদূর
 
ব্যাঙরা আজ দারুণ আনন্দেতে
‘কনসার্ট’ তাদের চলছে অবিরত;
অনেক জমানো ব্যথার উপশমে
হয়তো শুকচ্ছে  গভীর কোনো ক্ষত।
 
তোমার কথা হঠাৎ মনে ওঠা
আবছা আলোয় খানিক তোমায় দেখা;
পুরনো দিনের অনেক অজানা কথা
‘স্মৃতি’র ক্যানভাসে তার-ই ছবি আঁকা।
 
তারপর শুধুই শূন্যতা
ভেসে চলা কোনো অলীক স্বপ্নের মাঝে;
সময় চলে যায় ‘নদী’র স্রোতের মতো
আসতে পারলাম না বিশেষ কোনো কাজে।
 
‘সুজাতা’ তোমাকে কলেজ পাড়ার মোড়ে
দেখেছি বলতো কত বছর আগে;
স্মৃতি-সূত্র ধরে যদি টানো
দেখবে মনে জাগে কি-না জাগে
 
‘শরৎ’ হয়তো আসবে আগের মতো
‘ঢাকি’রা শহরে দেবে যে আবার পাড়ি;
দেবী-দুর্গা বসবেন মণ্ডপে
থেমে যাবে সব ভীষণ আড়া-আড়ি।

 

তবুও যেন কোথায় শূন্যতা
হু হু করে মনের প্রতিটি কোণায়;
‘চড়ুই’ ব্যস্ত চিলে কোঠার ছাদে
‘বাবুই’ ব্যস্ত নিজের বাসা বোনায়।
 
‘ডায়নোসর’-রা কোটি বছর আগে
দাপিয়ে বেড়াতো পৃথিবীর প্রতিটি কোণায়;
জীবাশ্ম প্রমাণ প্রতিটি বিজ্ঞানীর হাতে
প্রত্নতাত্ত্বিক ইতিহাস তার-ই নিদর্শন জানায়।
 
‘সাইন্স সিটি’র মোড়ে তুমি আমি হাত ধরে
দাঁড়িয়ে ‘প্রতীক ডায়নোসর’-এর নীচে;
মন চলে যায় অজানা ঠিকানায়
পুরীর সমুদ্র বা দীঘার শূন্য বীচে।
 
তারপর কখন একা একা পথ চলা
থমকে দাঁড়ানো ফাঁকা ময়দানের কাছে;
প্রতিটি ঘাসের সবুজ মখমলের কোণায়
আমার সুজাতার নাম যেন লেখা আছে।
 
একা হয়েও একা কী থাকা যায়
ভবঘুরের মতো শুধুই চলে যাওয়া;
গভীর দীর্ঘশ্বাস বুকের ভিতর থেকে
বয়ে যায় যেন প্রবল পাগলা হাওয়া।
 
মন পাগল কী শুধুই কেঁদে মরে
“পরশ পাথর” এত সহজে পাওয়া যায়;
বারে বারে হেরেও ‘মন পাগল’-এর কাছে
হৃদয় হেরেছে ‘হৃদয়’-এর ই ছায়ায়।
 
তবুও থমকে যায় না জীবনে চলা
‘পৃথিবী’র গতির সঙ্গে কেবলই পাল্লা দিয়ে;
হতাশা থাকলেও সেই গতি ধারায়
এগিয়ে চলা নিজেকে সঙ্গে নিয়ে।

Post a comment

0 Comments