অসমাপ্ত প্রেম || ভোলানাথ দাস


 

শঙ্খচিল যখন পাখা মেলে আকাশে
বাতাসে ভেসে আসে শিউলির গন্ধ;
‘শরৎ’-এর অনাবিল আনন্দে
হিংসা-দ্বেষ সব কিছুই বন্ধ!
 
সমুদ্রের জলে যেন অনেক নীল
বালুকা বেলার ঝিনুক তোলা চলছে;
বাতাসে পুজো-পুজো গন্ধ
দেবী-র বোধন সে কথাই বলছে।
 
হৃদয়ে যেন আনন্দের দোলা লাগে
প্রেম জেগে ওঠে মনের সুপ্ত কোণায়,
আসন্ন উৎসবের আনন্দের দিনগুলি
একটু করে শুধুই স্বপ্ন বোনায়।
 
কিশোর বয়সের অসমাপ্ত প্রেমের গল্প
‘শারদ-উৎসব’-এর পুরোটা সঙ্গে নিয়ে
কিশোর-কিশোরী এখন বয়স্ক প্রায়
স্বপ্ন রয়ে গেছে হয়নি তাদের বিয়ে।
 
তবুও ‘শরৎ’ আসে আগের মতো
আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠে চারিদিক;
ফুরিয়ে যায় না ‘গল্প-গাঁথা’র দেশ
চলতে থাকেই জীবনের দিক-বিদিক।
 
তবুও তুমি আসবে আগের মতো
সামান্য কিছু পাক ধরেছে চুলে;
কিছু কথা, কিছু গান আছে বাকি
সব-ই মনে আছে, কিছুটা গেছ ভুলে।
 
তুমি আসবে বলে বকুল কথার
স্বপ্ন এখনো যায়নি’
তুমি আসবে বলে নতুন নতুন
বিভেদের প্রাচীর হয়নি।
 
শরৎ আসে শরৎ চলে যায়
রেখে যায় তার রেখা
নদী চলে যায় গ্রামের বুক চিরে
দুর্গম আঁকা-বাঁকা।
 
এই ‘শরৎে’ও দেবী দুর্গা
আসবেন সদলবলে;
পাঁচ দিনের এই মহা অনুষ্ঠানে
মিলবে সকলে।
 
এই ‘উৎসব’ জন অরণ্য
তোমার আসা চাই;
তোমার সান্নিধ্য আমার জীবনে
মনে রাখবে সবাই।
 
বাসন্তী রঙের শাড়ি পরে
এলোকেশী চুল উড়িয়ে
অষ্টমীর সকালে আসবে
‘মা’-এর পায়ে অঞ্জলি দিয়ে
আনন্দেতে ভাসবে।
 
সান্ধ্য আলোকের মহানগরীতে
জন-অরণ্যে ভাসবো;
মিষ্টি কথা, কিছু খুনসুটি
স্মৃতির পাতায় রাখবো।
 
যদিও ‘মহামারী’, ‘আমফান’-এর থাবা
বাংলার বুকে পড়েছে;
মন বলছে তবুও বাংলা
একটু করে ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
 
‘শরৎ’-কে আমরা স্বাগত জানাই
মাঠে মাঠে ফুটেছে কাশ;
শিউলি ফুলের গন্ধ ছড়াবো
শিশির ভেজা ঘাস।

পুজোর গান, পুজোর প্রাণ
ছোটোদের মুখে হাসি;
বাতাসে ভাসবে পুজোর গন্ধ
আনন্দ রাশি রাশি।

Post a comment

0 Comments