Thursday, 11 April 2019

ভারতের একটা বড় অংশ মরুভূমি হওয়ার দিকে : বলছে আই.আই.টির গবেষণা


দ্য গ্রিন ওয়াক ব্যুরো : সম্প্রতি আই . আই . টি ইন্ডোরের গবেষণায় ধরা পড়েছে ভয়ঙ্কর একটি সত্য। আই .আই . টির গবেষকদের ইঙ্গিত ভারত মরুভূমি হওয়ার পথে। তাঁরা ১৯৮২ থেকে ২০১০, ২৯ বছরের তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত ও মাটির আর্দ্রতা থেকে একটা বিশেষ সূচক ঠিক করেছেন, সূচক থেকে দেখা যাচ্ছে , ভারতের ১৬ টি বড় নদীর অববাহিকার অর্ধেক অঞ্চলেই মাটির আর্দ্রতা কম। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অবস্থা গঙ্গা নদীর অববাহিকায়। গঙ্গা অববাহিকার ২৫% অঞ্চল খরা প্রবণ।

উত্তর-পশ্চিমের নদী মাহি , সবরমতী, লুনী নদীর অববাহিকা ভয়ঙ্করভাবে খরা প্রবণ, অঞ্চলটিকে আগের অবস্থায় ফিরে আনা প্রায় অসম্ভব। দক্ষিণের পেন্নার অববাহিকার ৯৬% খরাপ্রবণ, কৃষ্ণা ও তাপি অববাহিকার ৫০% খরাপ্রবণ।

জার্নাল গ্লোবাল প্ল্যানটেটরি চেঞ্জেস-এ আই . আই . টি ইন্ডোরের গবেষকরা ব্যাখ্যা করেন, “এই রকম চরম প্রাকৃতিক অবস্থায় গাছপালা, পশুপাখির বেড়ে ওঠা ও টিকে থাকা কঠিন। এই ভাবে খরার প্রবণতা বাড়তে থাকলে একসময় সমস্ত বাস্তুতন্ত্রটাই বিলুপ্ত হয়ে যাবে। গবেষণাটি প্রমান করে যে এইভাবে চলতে থাকলে সমস্ত অঞ্চলের গাছপালা যেমন অপ্রতুল হয়ে উঠবে তেমনি খাদ্যশস্য উৎপাদনেও মারাত্মক ঘাটতি হবে।”

পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম পরিবেশকর্মী কল্লোল রায় জানান, “বিষয়টি সত্যি খুব ভয়ের, এইভাবে চলতে থাকলে আমাদের নদীমাতৃক সভ্যতা হরপ্পা-মহেঞ্জোদারোর মতো বিলুপ্ত হয়ে যাবে। তবে অববাহিকাগুলো খরাপ্রবণ হওয়ার কারণ শুধু বিশ্বউষ্ণায়ণ নয়, প্রধান কারণ নদীতে বাঁধ দেওয়া।” নদীগুলিতে বাঁধ দেওয়ার ফলে, তার থেকে মাত্রাতিরিক্ত জল তুলে নেওয়ার ফলে প্রতিটি নদীরই তার অববাহিকায় মাটির নীচে দিয়ে যে সবুজ জলের প্রবাহ থাকে তাতে ঘাটতি পরে, যা খরা হওয়ার অন্যতম কারণ। এছাড়া বৃক্ষনিধনও একটা বড় কারণ। বেশির ভাগ বড় গাছ কেটে ফেলার ফলে সালোকসংশ্লেষের মাধ্যমে গাছ আর্দ্রতার যে সাম্য রাখতো তাও হারিয়ে যাচ্ছে প্রতিদিন।

পরিবেশকর্মী সঞ্জিৎ কাষ্ঠ জানান, ”আমরা নদীগুলিকে অবরিল রাখার কথা অনেকদিন থেকেই বলছি। হরিদ্বারের মাতৃসদন আশ্রমের সন্ন্যাসীরা গঙ্গাকে অবিরল করার জন্য আত্মবলিদান দিচ্ছেন। বর্তমানে ২৬ বছরের তরুন ব্রহ্মচারী ১৫০ দিনের বেশি দিন ধরে এই দাবিতেই অনশন করে যাচ্ছেন। সরকার থেকে বিরোধী পক্ষ কেউই আগ্রহী নয় বিষয়টি নিয়ে। কিন্তু আমরা সবাই জানি নদীগুলিকে বইতে না দিলে, তাদের অবিরলতা রক্ষা না করলে আমাদের দেশ একসময় মরুভূমি হয়ে যাবে। আমাদের প্রত্যেকের উচিত ব্রহ্মচারী আত্মবোধানন্দদের আন্দোলনের পাশে থাকা, আমাদের ভারতকে আমরা মরুভূমি হতে দিতে পারি না। ”


Source: The Green Walk

No comments:

'নিঃসঙ্গ মহা-রথী'।। রানা চক্রবর্তী

তিনি ছিলেন বিশ্বভারতীর প্রথম উপাচার্য। বিশ্বভারতীকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। সমসাময়িক অনেকের থেকেই তাঁর ভাবনা...