শুক্রবার, ৩ নভেম্বর, ২০১৭

কুসংস্কার বিরোধী আইন প্রণয়ন।। অনাবিল সেনগুপ্ত


প্রস্তাবিত কুসংস্কার বিরোধী আইনের যে ধারা গুলো নিচে কাগজ কাটিং এ দেখা যাচ্ছে,  তার প্রতিটা বর্তমান ভারতীয় আইনের বিভিন্ন ধারায় কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ! তারপরেও হঠাৎ  কিছু মানুষের "কুসংস্কার বিরোধী আইন" তৈরি নিয়ে তৎপরতা দেখা যাচ্ছে!  বর্তমান আইনকে মলাট বন্দি করে রেখে, নতুন আইন কতটা কার্যকরী হবে? যারা নতুন চাই বলছেন, তার কি কখনো আইনের সাহায্য চেয়েছেন বা প্রশাসনকে ওইসব ভণ্ড বুজরুকদের বিরুদ্ধে আইন মাফিক (এফ.আই. আর) ব্যবস্থা নিতে বলেছেন?  এবং প্রশাসন কি কখনো আপনাদের বলেছে ভারতে এমন কোন আইন নেই, যার দ্বারা  জ্যোতিষী, তান্ত্রিক, বাবাজী, মাতাজী, ওঝা, গুণিন, জানগুরুদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়?  কাউকে ধর্মের নামে বা যেকোনো (জ্যোতিষী বা তান্ত্রিক) পেশার নামে প্রতারণা, হত্যা বা হত্যা চেষ্টা করলে কি ভারতের আইন কম পড়েছে তার শাস্তি দিতে?  না যাদের ধর্মের নামে হত্যা করে ফাঁসি হওয়ার কথা ছিল, তাকে এই নতুন কুসংস্কার আইনের নামে সর্বোচ্চ শাস্তি কমিয়ে সাত বছর অথবা প্রথম বার তিন বছর ইত্যাদি করার চেষ্টা হচ্ছে ?  ওই আইনের নামে বুজরুকদের স্বীকৃতি দেবার  চেষ্টা করা হবে নাতো?  অমুক তান্ত্রিক ভালো?  বা তমুক জ্যোতিষী খারাব? এই আইনে শাস্তি বর্তমান আইনের থেকে কমিয়ে দেবার চেষ্টা হচ্ছে নাকি?  বর্তমানে আইনে কুসংস্কারের নামে কোনো অপরাধ বা অপরাধীকে (পুলিশি বা প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা বাদে) আইনের অভাবে বন্ধ করা বা ধরা যায়নি ভারতে, তার কি তথ্য আছে ????   হ্যাঁ নতুন আইন করে গোটা ভারতে যদি সমস্তরকম কুসংস্কারকে ( বিজ্ঞান বিরোধী সমস্ত কিছু ) নিষিদ্ধ তথা তার প্রচার,  চর্চা এবং প্রয়োগ শাস্তি যোগ্য  অপরাধ হয় (বর্তমান আইনের থেকে কম শাস্তি নয় কিছুতেই, কারণ তাহলে এর দরকার পড়তো না ) তাহলে আমার সমর্থন রইলো।
ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতির পক্ষ থেকে ১৯৮৫ সাল থেকেই প্রশাসনের কাছে প্রবল দাবী উঠছে আইনকে মলাট বন্দি না রেখে, সর্বত্র তার প্রয়োগ হোক। ভারতীয় আইন [যেমন, Drugs and Magic Remedies (Objectionable Advertisements) Act 1954, Drug and Cosmetic Act 1940 (Amendment 2009), IPC 415, 420(প্রতারণা), IPC 299 to 308 (অপরাধজনক নরহত্যা, অপরাধজনক নরহত্যা অনুষ্ঠানের উদ্যোগ), IPC120A&B (অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র),  IPC 319 to 338 (আঘাত, গুরুতর আঘাত), IPC 339 to 358 (অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ), IPC 268 (গন-উপদ্রপ), IPC 375 (ধর্ষণ), IPC 503 to 507 (অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন), IPC 508 (কোন ব্যক্তিকে সে দৈব আক্রোশ কবলিত হইবে বলিয়া বিশ্বাস করিবার জন্য প্ররোচিত করিয়া কোন কার্য সম্পাদন করা), IPC 447 (অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ), IPC 354, 509 (শ্লীলতাহানি) এবং IPC 367 (ধর্ষণের চেষ্টা), IPC 425(অনিষ্ট) ইত্যাদি আইন অনুযায়ী যেকোন  "অলৌকিক(?) কর্মকাণ্ড এর নামে ধান্ধাবাজি, বুজরুকী, ঝাড়ফুঁকের নামে অত্যাচার, ব্যভিচার,  প্রতারণা করে" তার যেকোনো রকম প্রাসার, প্রচার এবং প্রয়োগ নিষিদ্ধ এবং নূন্যতম শাস্তি ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড থেকে যাবজ্জীবন বা ফাঁসি পর্যন্ত হতে পারে!] অনুযায়ী জ্যোতিষী, তান্ত্রিক, বাবাজী, মাতাজী, ওঝা, গুণিন, জানগুরুদের  বিভিন্ন বুজরুকী বা পরিকল্পিত হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্ত মূলক ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ রইলো। 
ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতি  ভারতের একমাত্র সংগঠন,  যারা১৯৮৫ সাল (দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে) থেকেই ভারতীয় এই বিভিন্ন আইনের প্রচার এবং তার প্রয়োগ করে চলেছে এইসব "জ্যোতিষী, তান্ত্রিক, বাবাজী, মাতাজী, ওঝা, গুণিন, জানগুরুদের " বিরুদ্ধে যাদের অনেকেই আজ শ্রীঘরে। (যার বলে চলেছে কুসংস্কার বিরুদ্ধে আইন নেই তার কি বলবেন? না নিথর প্রশাসনকে অজুহাত তুলে দিচ্ছেন!) 
"জ্যোতিষী, তান্ত্রিক, বাবাজী, মাতাজী, ওঝা, গুণিন, জানগুরুদের " উদ্দেশ্যে রইলো ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতির তরফে  "৫০ লক্ষ টাকার চ্যালেঞ্জ"  যে কেউ যেকোন রকম অলৌকিক (?) ঘটনা দেখাতে পাড়লে! 
এই চ্যালেঞ্জ এর সামনে ৭০০ উপর পরাজিত অবতার ও জ্যোতিষীরা == 
ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতির জন্মের সময় থেকেই অবতার, জ্যোতিষী, অলৌকিক ক্ষমতাধারীদের বিরুদ্ধে এই চ্যালেঞ্জ জারী আছে। কিন্তু এদের প্রায় সবাই এই চ্যালেঞ্জের সামনে আসতে অপছন্দ করেন। যারা অর্থলোভে, প্রচার পেতে বা নেহাত দায়ে পরে চ্যালেঞ্জ নিতে বাধ্য হয়েছেন, তাদের সবাই পরাজিত, বিধ্স্ত অথবা পলাতক। এদের মধ্যে কয়েকজন হলেন - তারাপীঠের তান্ত্রিক নির্মলানন্দ, গৌতম ভারতী, ডাইনি সম্রাজ্ঞী ঈপ্সিতা, পুনের মিঠাইবাবা, সাইবাবা, সাইদাবাদী, আমেরিকার মরিস সেরুলো, ফকির এস পি আলি, সত্যানন্দ, বাবা রামদেব, অলৌকিক মাতা জয়া গাঙ্গুলি,  ভ্যাটিকানের পোপ (মাদার টেরিজার অলৌকিকতা!) প্রমুখ।
বুজরুক, অলৌকিক বাবাজী, মতাজী, জ্যোতিষী, তান্ত্রিক, ঠগবাজদের বিরুদ্ধে আমাদের দেশের আইন কি বলছে দেখা যাক :
. দ্যা ড্রাগস অ্যান্ড ম্যাজিক রেমেডিস ( অবজেকশন্যাবল অ্যাডভারটাইজমেন্টস ) অ্যাক্ট, ১৯৫৪-সংসদে প্রবর্তিত এই আইন ৩০ এপ্রিল ১৯৫৪ তারিখে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পায় এবং ১মে ১৯৫৪ তারিখে ভারত সরকার কর্তৃক প্রকাশিত সরকারি গেজেটের বিশেষ সংখ্যার দ্বিতীয় অংশের প্রথম অধ্যায়ের ২৪ নং ক্রমে প্রকাশিত l
  ড্রাগ সম্পর্কিত কিছু বিজ্ঞাপন এবং যাদু বা মন্ত্রবলে রোগ প্রতিকার হিসেবে বর্ণিত বিজ্ঞাপন ও সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ নিষিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে এই আইন প্রবর্তিত l
    ১৯৬৩-তে আইনটি সংশোধন করা হল,৯ ( এ ) ধারা সংযোজন করে বলা হল, এই আইন ভঙ্গকারীদের 'congnizable' অপরাধী হিসাবে গণ্য করা হবে l
       জ্যোতিষ,তান্ত্রিক,ম্যাগনেটোথেরাপি,ফেংশুই সহ সমস্ত রকম বাবাজী মাতাজীদের শায়েস্তা করতে 'দ্যা ড্রাগস অ্যান্ড কস্মেটিকস অ্যাক্ট 1940 আইনটি আরও কড়া হল l 19 মার্চ 2009 ভারত সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান দপ্তর একটি নোটিশ জারি করে GSR 884 ( E ) The Drugs and Cosmetics Act ( 1940 ) Amendment. নোটিশে জানাল প্রতিটি ওষুধের ওজন, আয়তন, উপাদান সমূহের পরিমাণ ওষুধের লেবেলের গায়ে না সাঁটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য হবে l ওষুধ সেবনের ফলে রোগীর মৃত্যু বা আশঙ্কাজনক ক্ষতি হলে ওষুধ প্রস্তুতকারকের শাস্তি আজীবন কারাদন্ড পর্যন্ত হতে পারে ও দশ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানাও হতে পারে l [উক্ত আইনে "cosmetics" দ্রব্যাদিও পড়ছে এবং যা "ISI Standard" এর মান দ্বারা নির্ধারিত হওয়ার পর বাজারে বিক্রি করা যাবে। তাহলে দেখাই যাচ্ছে "ধনলক্ষী যন্ত্র বা সৌভাগ্য জেমস" এর নামে কিভাবে এক দুর্নীতির চক্র চলছে আমাদের আশেপাশে! ]
ওষুধ বা 'ড্রাগ' বলতে শরীরে যাহা কাজ করে বলে দাবি করা হবে যেমন তাবিজ, মাদুলি, কবজ, যাগ-যজ্ঞ ইত্যাদি সমস্ত কিছুই কিন্তু ড্রাগের মধ্যেই পড়ে l
সাধারণ মানুষের কী করণীয় এই ভন্ডামীর বিরুদ্ধে :
    আপনি যদি পশ্চিমবঙ্গবাসী হন, এবং কোনও তান্ত্রিক বা জ্যোতিষী যদি রোগ থেকে আরোগ্য লাভের জন্য ড্রাগ লাইসেন্স ছাড়া আপনার কাছে কোনো তাবিজ,কবজ, মাদুলি বা ঐ ধরণের কিছু বিক্রয় করে থাকেন তবে আপনি আপনার অভিযোগ দায়ের করবেন এই ঠিকানায়--
ডিরেক্টার অফ ড্রাগস কন্ট্রোল, পশ্চিমবঙ্গ সরকার 141 , আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু রোড, কলকাতা-700014  l অভিযোগ দায়ের করার সময় খেয়াল রাখতে হবে, তান্ত্রিক-জ্যোতিষির রোগ সারাবার কোনো বিজ্ঞাপন পত্র- পত্রিকায় প্রকাশিত হয়ে থাকলে তার জেরক্স কপি অভিযোগ পত্রের সাথে যুক্ত করে দেবেন l মূল কাগজটি যত্ন করে রেখে দেবেন, মামলা চলাকালীন কাজে লাগবে l আপনার অভিযোগ পাওয়ার পর ড্রাগস কন্ট্রোল থেকে অভিযুক্তের কাছে জানতে চাইবে এই ধরণের তাবিজ কবজ ( যা আইনের সংঞ্জায় ওষুধ বা ড্রাগস ) তৈরির বৈধ লাইসেন্স তার কাছে আছে কিনা l ড্রাগস কন্ট্রোলের দেওয়া লাইসেন্স ছাড়া ওষুধ বানানো বা বিক্রয়ের জন্য ওই জ্যোতিষী বা তান্ত্রিকের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করবে ড্রাগস কন্ট্রোল l মামলাটি হবে অভিযুক্ত তান্ত্রিক-জ্যোতিষি বনাম সরকারের l আপনাকে বড়জোর সাক্ষী দেওয়া ছাড়া কিছুটি করতে হবে না l এবং সর্বোপরি  আপনার নিকটবর্তী পুলিশ থানা, বিডিও, এসডিও বা ডিএম অফিসে লিখিত অভিযোগ জানিয়ে রাখুন। 
  আসুন আপনি আমি সহ সমস্ত শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ বেআইনি এইসব পেশার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে সচেতন করে তুলি এবং নিথর প্রশাসনকে সচল করি, নচেৎ আইন বইয়ের মলাটে বন্দিই থাকবে অনন্তকাল অবধি l 
পেপার কাটিং : গণশক্তি, ২০/০৮/২০১৭। [http://ganashakti.com/bengali/features_details.php?featuresid=1652 ]


[গত  ছয়  এপ্রিল  রাজ্য  সরকারের  কাছে  কুসংস্কারবিরোধী আইন  প্রস্তাবনা উদ্যোগ - এর  পক্ষে  এই  রাজ্যে  কুসংস্কারবিরোধী  আইন  লাগু  করার  জন্য  একটা  খসড়া  প্রস্তাব জমা  দিয়েছে।  
সেই  খসড়া  প্রস্তাবটির  সিডিউল  3 তে  তেরোটা  আইন  মোতাবেক  আদালত  গ্রাহ্য  অপরাধ  হিসেবে  গণ্য  করার জন্য  কুসংস্কারচর্চার  একটা  তালিকা  দিয়েছে ।  
1.  ভূত  অশুভ  আত্মা  প্রেতাত্মা  বা  ওই  ধরনের  কিছু  তাড়ানোর  অজুহাতে  কোনো  ব্যক্তিকে  দড়ি  শেকল  ইত্যাদি  দিয়ে  বাঁধা  ঝুলিয়ে  রাখা , তাকে  লাঠি  জুতো  ঝাঁটা  চাবুক  বা  ওই  ধরনের  কোনো  বস্তু  দিয়ে  মারা  চুল  ছিড়ে  নেওয়া  বা  কেটে  দেওয়া , গরম  লোহার  শিক  বা  ওই  ধরনের  কিছু  দিয়ে  ছেঁকা  দেওয়া ,  যে কোনোভাবে  শারীরিক  ও মানসিক  নির্যাতন  করা , শুকনো  লঙ্কা জাতীয়  জিনিস  পুড়িয়ে  তার  গন্ধ  শোকানো , অত্যাচারের  ভয়  দেখিয়ে  নোংরা  জল  প্রস্রাব  বিষ্ঠা  বা  ওই  জাতীয়  কোনো  অখাদ্য  কুখাদ্য  খেতে  বাধ্য  করা , জুতো  মুখে  নিয়ে  দৌড়ে  যাওয়া , ওই  জাতীয়  সামাজিক  মর্যাদা  হানিকর  কোনো  কাজ  করতে  বাধ্য  করা , প্রকাশ্যে বা  অপ্রকাশ্য  যৌন  হেনস্থা   হয়রানি  করা , অন্য  যে  কোনো  মানসিক  বা  দৈহিকভাবে  অস্বাস্থ্যকর  কাজ  করতে  বাধ্য  করা  আইনত  দণ্ডনীয়  অপরাধ  হিসেবে  গণ্য  করতে  হবে।  
 কাউকে  ভূতে  ধরেছে  বা  অশুভ  আত্মা  বা  অশুভ  শক্তি  ভর  করেছে  বলে  প্রচার  করাটাও  এই  আইনের  আওতায়  আসবে ।
2 তথাকথিত  অলৌকিক  ক্ষমতা  দেখিয়ে  এবং  /  অথবা  প্রচার  করে  জনসাধারণের  কাছ  থেকে  প্রত্যক্ষ  বা  পরোক্ষভাবে  অর্থ  জমি  বাড়ি  অলংকার  সম্পত্তি  ইত্যাদি  আদায়  /উপার্জন  করা ,  ভয়  দেখানো  সন্ত্রস্ত  করা  প্রতারিত  করা , শারীরিক  /মানসিকভাবে  ক্ষতিকর  কোনো  ক্রিয়া কলাপ  করা  এবং  /অথবা  অন্যকে  প্ররোচিত  করা  অপরাধ  হিসেবে  গণ্য  করতে  হবে ।  
3.   অলৌকিক  শক্তি  বা  ক্ষমতার  অধিকারী  হতে  গিয়ে  বা  ওই  ধরনের  অতিপ্রাকৃত  কোনো   শক্তির  আশীর্বাদধন্য  হওয়ার  / করার  বাসনায়  এমন  কিছু  করার  বা  অন্যকে  প্ররোচিত  করা  যাতে  ব্যক্তির   শারীরিক  /  মানসিক  ক্ষতি  বা  জীবনহানির  আশঙ্কা  থাকে , অপরাধ  হবে  এসব কাজ ও।
কুসংস্কারবিরোধী  আইনের  খসড়ার  4 নং   দাবি   #
4.  জলের  গোপন  উৎস , গুপ্তধন , সোনাদানা , হীরে , খনিজ সম্পদ  ইত্যাদি  অনুসন্ধানের  নামে  কোনো  অমানবিক  এবং  / অথবা  বৈজ্ঞানিকভাবে  অপরীক্ষীত   এবং  / অথবা  অস্বীকৃত  কোনো  কাজ  / যাদু -  করা  বা কাউকে  সেই  ধরনের  কাজ  করতে  প্ররোচিত  / প্রলুব্ধ  করা  এবং  সেই  ধরনের  কাজের  প্রচার  করা , যাতে  কোনো   ব্যক্তির  শারীরিক  /মানসিক  ক্ষতি   কিংবা   অঙ্গ/ জীবনহানি  হয়  বা  তার  আশঙ্কা  থাকে ।
@   কুসংস্কারবিরোধী  আইন  প্রস্তাবনা  উদ্যোগ  কর্তৃক  জমা  দেওয়া  খসড়ার   5 নং  দাবি ।  @  
কোনো  ব্যক্তির  অলৌকিক  বা  দৈবশক্তি  আছে  বা  ওই  ধরনের  কোনো  শক্তি  ভর  করেছে  বলে  প্রচার  করে  জনসাধারণকে  ভীত - সন্ত্রস্ত  করে  তোলা , এমন  প্রচারের  দ্বারা  মানুষকে  আকৃষ্ট  করে  অর্থ , সম্পত্তি  ইত্যাদি  আদায়  করা  বা  তার  চেষ্টা  করা  এই তথাকথিত  দৈবশক্তির  প্রতি  আনুগত্য  না  দেখালে  বা ঘোষিত  বিধান  না  মানলে  সমূহ  ক্ষতি  হওয়া  বা  ক্ষতি  করার  ভয়  দেখানো  দণ্ডনীয়  অপরাধ  বলে  আইনের  আওতায়  আনতে  হবে ।
কুসংস্কারবিরোধী  আইনের  খসড়ার  6 এবং  7  নম্বর  দাবি । @
6.  কোনো  ব্যক্তি  তথাকথিত  ভূত  নামানো  প্রেত চর্চা  ডাকিনিবিদ্যা  চর্চা  করে  বা  তার  মাধ্যমে  সে অশুভ  শক্তিকে  নিয়ন্ত্রণ  করতে  পারে , কুনজর  কুদৃষ্টি  দিয়ে  বান  মেরে  মন্ত্রতন্ত্র  বা  অন্য  কোনো  ক্রিযকলাপের  মাধ্যমে  গবাদিপশুর  মড়ক  লাগানো , দুগ্ধবতী  দুধ  নিঃসরণ  বন্ধ  করা , অসুখবিসুখ  ঘটনো  থেকে  শুরু  করে  নানাবিধ  দুর্ভাগ্য  ডেকে  আনা  এবং  যেকোনো  ক্ষতিসাধন  করার  অশুভ  ক্ষমতা  আছে  বলে  প্রচার  করা ,  এবং  ওই  ব্যক্তিকে  ডাইন  বা  ডাইনি  শয়তানের  অনুচর  /দূত  ইত্যাদি  তকমা  দিয়ে  প্রচার  করা , তার  ওপর  শারীরিক /মানসিক   অত্যাচার  চালানো , তাকে  একঘরে  করা , অর্থ  জমি  ইত্যাদি  আদায়  করা  বা  দখল  করা ,  তাকে  এলাকা  থেকে  বিতাড়িত  করা , তার  ওপর  হামলা  এবং  /অথবা  তাকে  হত্যার  চেষ্টা ।  
7.  কোনো  ব্যক্তিকে  ডাইন  বা  ডাইনি  বলে  দেগে  দিয়ে  তাকে  প্রকাশ্যে  /অপ্রকাশ্যে  নগ্ন  করে  হাঁকানো  এবং  তার  ওপর  যে  কোনো  ধরনের  শারীরিক  /মানসিক  নির্যাতন  চালানো ।  
 নখদর্পণ , থালা - বাটি  চালা , কন্ছি  চালা , আটার  গুলি  ইত্যাদির  সাহায্যে  চোর  ধরা , অপরাধী  শনাক্ত  করা  বা  করার  চেষ্টা  বা ওই  ধরনের  দাবি  / বিজ্ঞাপন  দেওয়া  বা  সেই  সূত্রে  কোনো  ব্যক্তির  ওপর  শারীরিক  /মানসিক  নির্যাতন  করা  বা তার  প্ররোচনা  দেওয়া ।  
এই  ধরনের  কুসংস্কারচর্চা  আমাদের  প্রস্তাবিত  আইনের  খসড়ার  দাবি  হিসেবে  রয়েছে ।
কুসংস্কারবিরোধী  আইনের  খসড়ার  9 এবং  10  নম্বর   দাবি ।  
9.  সাস, কুকুর , বিছে  বা  যে  কোনো  প্রাণীর  কামড়ের  চিকিৎসার  ক্ষেত্রে  বৈজ্ঞানিকভাবে  প্রমাণিত , প্রতিষ্ঠিত  ও  স্বীকৃত  পদ্ধতি  এড়িয়ে , রোগীকে  তা  নেওয়ার  ব্যাপারে  উৎসাহিত  / সাহায্য  না  করে  /নেওয়ার  ব্যাপারে বাধা  দিয়ে  ওঝাগুনিন , তান্ত্রিক  প্রমুখের  দ্বারস্থ  হওয়ার  প্ররোচনা  দেওয়া  এবং  / অথবা  ঝাড়ফুঁক , মন্ত্র তন্ত্র , বিষপাথর  দিয়ে  বিষ  তোলা , ক্ষতস্হানে  মুরগির  পায়ু  ঘষা , শেকড়  বাকর  ইত্যাদি  দিয়ে  /খাইয়ে  বিষ  নামানোর  চেষ্টা  ইত্যাদি ।  
10.  আঙুল  বা  অঙ্গপ্রত্যঙ্গ  দিয়ে  ' রক্তপাতহীন '  অস্ত্রোপচার , গর্ভবতী  মহিলার  যৌনাঙ্গে  হাত  /  আঙ্গুল  ব্যবহার  করে  বা  অন্য  যে  কোনো  পদ্ধতিতে  গর্ভস্থ  ভ্রূণের  লিঙ্গ  নির্ধারণ  /পরিবর্তন  করার  দাবি  করা । 
এই  কুসংস্কারচর্চার  শেকড় বাকর  তোলার  জন্যই  এসব  চর্চা  বন্ধ  করার  আইন  চাইছি  আমরা ।
কুসংস্কারবিরোধী  আইনের  খসড়ার  11  নম্বর 
সন্তানধারণে  ইচ্ছুক  মহিলাকে  ডিম , কলা  বা  অন্য  কোনো  বস্তু  খাইয়ে , তন্ত্রমন্ত্র- এর  সাহায্যে  বা  অন্য  কোনো  অবৈজ্ঞানিক  পদ্ধতি  অবলম্বন  করে  এবং  / অথবা  তথাকথিত  অলৌকিক  শক্তির  সাহায্য  নিয়ে  " সন্তানবতী"   করার  দাবি  করা  / চেষ্টা  করা ।  
 আলৌকিক  ক্ষমতার  সাহায্যে  কোনো  মহিলাকে  সন্তানবতী  করার  প্রতিশ্রুতি দিয়ে  এবং  বিশ্বাসের  সুযোগ  নিয়ে  তাকে  প্রতারণা  করা , যৌন সম্পর্ক স্থাপন  করা , যৌন নির্যাতন  চালানো ।  তুকতাক  ঝাড়ফুঁক  মন্ত্রপূত  জলপড়া  তেলপড়া  তাবিজ  কবজ  মাদুলি  আংটি , তামা  বা  ওই  জাতীয়  ধাতু, পাথর , শিকড় বাকড় , মাটি  মন্ত্র  তন্ত্র ,  বিশ্বাস , প্রার্থনা  ইত্যাদির  মাধ্যমে  শারীরিক  /মানসিক  চিকিৎসা  করা  /করার  চেষ্টা  করা  /  দাবি  করা ।  
আইন  ও  গণচেতনা  দিয়ে  এসব  রুখতে  হবে ।

12.  কোনো  ব্যক্তির  শারীরিক  / মানসিক  বিকার , কোনো  ব্যক্তি, প্রাণী  বা  বস্তুর  ব্যতিক্রমী  জৈব  রূপ , সত্তা  বা  বাস্তবতার  বহিঃপ্রকাশকে  দৈব  ঘটনা , ঈশ্বরের  আবির্ভাব  ইত্যাদি  বলে  প্রচার  করা  কিংবা   সেই  ব্যক্তি , বস্তু বা প্রাণীকে  " দৈবশক্তি  সম্পন্ন  বলে  প্রচার  করা  এবং  তার  মাধ্যমে  জনসাধারণকে  বিভ্রান্ত  করা , অর্থ  আদায়  করা , সেই  ব্যক্তি , বস্ত  বা প্রাণীর  প্রতি  আনুগত্য  আদায়  করা , তার  ঘোষিত  বা  তার  নামে  ঘোষিত  বিধিবিধান , আদেশ , উপদেশ  জনসাধারণকে  মেনে  চলতে  প্ররোচিত  করা  বা  বাধ্য  করা । 
13.  শিক্ষা , স্বাস্থ্য , চিকিৎসা , জমিজমা , চাকরি , ব্যবসা , প্রেম , বিয়ে , দাম্পত্য  কলহ , শত্রুদমন   জাতীয়  ব্যক্তিগত  /পারিবারিক   সমস্যার  নিষ্পত্তি  করতে  তন্ত্রমন্ত্র , বশীকরণ , মুঠিকরণ , বানমারা , তুকতাক  বা  ওই  ধরনের  যে কোনো  অবৈজ্ঞানিক  (অপরীক্ষিত  ও  অপ্রমাণিত )   পদ্ধতির  সাহায্য  দেওয়া , দাবি  ও  প্রচার  করা , বিজ্ঞাপন  দেওয়া। ]

কোন মন্তব্য নেই:

হেলানো টাওয়ার আর টেলিস্কোপ।। কে এম হাসান

(ছবি: Palazzo Vecchio,Uffizi Gallery, Exterior,Galileo Sculpture,Florence) বিজ্ঞানের ইতিহাস থেকে -১৫ ফেব্রুয়ারী গ্যালিলিওর জন্মদিনে ...