শনিবার, ২৮ অক্টোবর, ২০১৭

তাজমহল নিয়ে কিছু কথা || আবু সুফিয়ান


বর্তমানে আমাদের দেশে ভাঁড় আর জোকারের সংখ্যা 
হঠাৎ খুব বেড়ে গেছে। রাজনৈতিক আঙিনায়ও তাদের সংখ্যা ক্রম বর্ধমান ।আর সেই ভাঁড় এবং জোকারদের নাচনে আমরা নাচছি। এই কয়েকদিন আগে তাজমহলকে নিয়ে কিছু ভাঁড়দের মন্তব্যে আমরাও নাচছি।  
   একথা সকলের জানা  ১৪ বছরের ইরানী কিশোরী মমতাজের দৈহিক সৌন্দর্য্য  শাহজাহানকে বিমোহিত করে ফেলেছিল। তাই তিনি এ কিশোরীর সাথে বাগদান সম্পন্ন করেন, কিন্তু তাকে বিয়ে করে ঘরে তুলে নেননি। বরং মমতাজকে ঝুলিয়ে রেখে শাহজাহান অন্য   নারীকে বিয়ে করেন। বাগদানের ৫ বছর পর ১৬১২ সালে মমতাজকে তৃতীয়/ চতুর্থ স্ত্রী হিসেবে প্রাসাদে নিয়ে আসেন শাহজাহান। আবার ১৬১৭ সালে তিনি আরো এক নারীকে বিয়ে করেন মমতাজসহ স্ত্রী ঘরে থাকা সত্ত্বেও। এদিকে বিয়ের ১৯ বছরের মধ্যে মমতাজ শাহজাহানের ১৪ সন্তানের মা হন। ১৪তম সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে মাত্র ৩৮ বছর বয়সেমৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন মমতাজ। পরে অবশ্য  আরও ৩/৪ টি বিয়ে করেন শাহজাহান।স্ত্রী মমতাজ মহলের অকাল মৃত্যুতে মুঘল সম্রাট শাহজাহানের হৃদয়ে খুব আঘাত লাগে। সেই ভেঙ্গে পড়া হৃদয় নিয়ে তিনি স্ত্রীর কবরের উপর একটা সমাধিসৌধ নির্মাণ করেন। এটাই তাজমহল।
তাজমহলের অপূর্ব সৌন্দর্য্য ও কারুকার্যময়তায় অভিভূত হওয়া স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। কবি নজরুল বললেন   , “তাজমহলের পাথর দেখেছ, দেখিয়াছ তার প্রাণ?”  
অন্তরে তার মমতাজ নারী, বাহিরেতে শা-জাহান।“
 রবীন্দ্রনাথ লিখলেন, “ একবিন্দু নয়নের জল 
কালের কপোলতলে 
শুভ্র সমুজ্জল  
ইংরেজরা ১৯২১ সালে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্থাপনা ও ঐতিহ্য তাজমহল ভেঙ্গে দেয়ার চেষ্টা করেছিল। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাই তাজমহল ভাঙ্গার প্রতিবাদ করেছিলেন। এব্যাপারে তিনি দেশ-বিদেশে বক্তব্য দেন ও জনমত গড়ে তোলেন। এ নিয়ে আমেরিকায়ও তিনি বক্তব্য রাখেন। যার ফলে পৃথিবীর অসাধারণ সৌন্দর্যময় স্থাপনা তাজমহল রক্ষা পায়।  
অথচ তাজ মহলের সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক নাই। কারণ ইসলামে কবরের উপর কোন কিছু নির্মাণই নিষিদ্ধ। “হযরত জাবির রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রাসূল সাঃ কবরে চুনকাম করতে, কবরের উপর গৃহ নির্মাণ করতে, এবং কবরের উপর বসতে নিষেধ করেছেন।“ {সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-৯৭০} তাই ইসলামের আদর্শকে বিসর্জন দিয়ে নির্মিত হয় তাজমহল। 
সেখানে কে কোথায় কবরের উপর কি নির্মাণ করল তাতে আম জনতার কি আসে যায়? আর ভারতের মুসলিমরা তাতে কিভাবে লাভবান হয়েছিল বা ভারতীয়রা তাতে কি লাভবান হয়েছিল? বরং বর্তমান ভারত সরকার কোটি কোটি টাকা আয় করছে। কয়েক হাজার মানুষ পর্যটন বাণিজ্যের সাথে এবং আরও হাজার হাজার মানুষ হোটেল  ব্যবসার সাথে যুক্ত তাঁরা লাভবান হচ্ছে।  
 কিন্তু তাজমহল নির্মাণের সাথে জড়িয়ে থাকা ইতিহাসকে ভুলে যাওয়া মোটেই স্বাভাবিক কাজ নয়।তাজমহলের নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১৬৩২ সালে এবং পুরোপুরি শেষ হয় ১৬৫৩ সালে। এ সময়কালে ২০,০০০ শ্রমিক ও কারিগর তাজমহল নির্মাণে দাসদের মতো ব্যবহৃতহয়েছিল। শাহজাহান তাজমহল নির্মাণে তখনকার সময়ের ৩২ মিলিয়ন রুপি খরচ করেছেন। 
তাজমহল নির্মাণের ১১ বছর পর শায়েস্তা খাঁ সুবেদার হয়ে বাংলায় আসেন। শায়েস্তা খাঁর আমলে টাকায় ৮ মণ চাল পাওয়া যেতো । অর্থাৎ তখন ১ মণ চালের দাম ছিল সাড়ে ১২ পয়সা। আর বর্তমানে ১ মণ চালের সর্বনিম্ন মূল্য কত? সম্ভবত: ১১০০ থেকে ১,২০০ টাকার মধ্যে হবে। এবার হিসাব করে দেখুন তাজমহল নির্মাণে কত টাকা ব্যয় হয়েছিল? 
এ পুরো টাকাটাই ছিল সাধারণ মানুষের রক্ত চুষে আদায় করা খাজনা। শাহ্জাহান এ টাকাই ব্যয় করেছেন নিজের মৃত স্ত্রীর কবরের উপর স্মৃতিসৌধ নির্মাণের মতো ব্যক্তিগত অভিলাষ পূরণে। কোনো সত্যিকারের প্রেমিক মন কি কখনো এমন একটা জঘন্য অন্যায় করতে চাইবে? জনগণের করের টাকা এইভাবে ব্যয় চরম ইসলাম বিরোধী 
অনুৎপাদনশীল খাতে এ বিশাল পরিমান অর্থ খরচ করা আর সেই অর্থ আদায় করতে গিয়ে জনগণের উপর চালানো অত্যাচারের কুফল হিসেবে তাজমহল নির্মাণের কিছুদিনের মধ্যে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। রাস্তায় পড়ে থাকা মৃতদেহগুলির খোলা চোখ তখন তাজমহলের সাদা মার্বেলগুলিকে দেখে নি।
আর ভেবে দেখুন গোটা বিশ্ব যখন চরম অন্ধকারে তখন ৮১০ সালে জ্ঞান বিজ্ঞানের চর্চার জন্য মরুভুমির মাঝে বাগদাদে তৈরি হোল বিশ্ববিদ্যালয়। ১২৫৮ খ্রিস্টাব্দ মানে মঙ্গোল আক্রমণ পর্যন্ত জ্ঞানের মাশাল জ্বালিয়ে গেছে, আধুনিক বিজ্ঞানের ভিত্তি রচনা করেছে।পরে স্পেনের  কর্ডোভায় চলল জ্ঞানবিজ্ঞানের চর্চা। তাজমহল নির্মাণে যে অর্থ ব্যয় হোল তাতে ওই রকম কতগুলি বিশ্ব বিদ্যালয় তৈরি হত আমরা একবারও চিন্তা করেছি?    
মুঘল পরিবারের মেয়েদেরকে বিয়ে করতে দেয়া হতো না। সম্রাট শাহজাহান নিজের মেয়ে জাহানারা আর রোশেনারার প্রেমকে জঘন্য উপায়ে কবর দিয়েছিলেন। যারা তাদেরপ্রেমে    পড়েছিল শাহজাহান তাদের একেবারেই পছন্দ করেন নি। তাদের প্রেমিকরা লুকিয়ে তাদের সাথে দেখা করতে আসতো। শাহজাহান তাদের বন্দি করে তাদের হত্যা করতে এতটুকু দ্বিধা করেন নি। যমুনার তীরে তখন তাজমহলের নির্মাণ কাজ চলছিল।  
সম্রাট শাহজাহান ও মমতাজের প্রেম কাহিনী যতটা আলোচিত ততটাই আলোচিত যে, মমতাজ আসলে সম্রাট শাহজাহানের কত  তম স্ত্রী। কোথাও বলা হয়েছে মমতাজ শাহজাহানের ৩য় স্ত্রী, কোথাও বলা আছে ৪র্থ স্ত্রী। আসলে কততম স্ত্রী তা কোথাও সঠিকভাবে বলা নেই।মমতাজের মৃত্যুর পর আরও তিন মহিলাকে শাহজাহান বিয়ে করে। 
তাই যদি চর্চা করতে হয় তাহলে চর্চা করুন আরব মুসলিমরা একসময় কিভাবে পাগলের মত জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা করেছে। জ্ঞানের চর্চা করতে গিয়ে কত ভাষা তাঁরা শিখেছে। সেই সময়ের মুসলিম শাসকরা কিভাবে কিভাবে জ্ঞানীদের, লেখকদের উৎসাহ দিয়েছে। বইএর ওজনের সমপরিমাণ সোনা দিয়ে লেখককে পুরস্কৃত করেছে।তারপর জ্ঞান চর্চা ছেড়ে বিলাসব্যসনে শাসকরা মন দিল। ইসলামের মূল আদর্শকে ত্যাগ করে শুধু কয়েকটি ধর্মীয় বিধান তোতা পাখির মত আউড়ে গেছে এবং এখনও যাচ্ছে। আর তার ফলেই তাদের অধঃপতন, সে সব নিয়ে চর্চা হোক। 
আর যারা বলছে তাজমহল হিন্দু মন্দির ছিল তাদের বদ্দ পাগল ছাড়া আর কিছু বলা যায় না। ২০০ সালে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত তাদের উন্মাদ বলে রায় দেয়।  কিন্তু এই সব ভাঁড় তথা জোকাররা একথা বলছে কেন? যারা একসময় আচ্ছা দিনের, বিদেশ থেকে সব কাল টাকা উদ্ধারের,বছরে দু কোটি  বেকারের চাকুরির আরও সব বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সেই ঢোল ফেঁসে গেছে। রামমন্দির নির্মাণ আর চলছে না। মুসলিমরাও দেখছে হাজার মসজিদে নামাজ পড়ার মানুষ নাই তো বাবরি মসজিদ হোল আর না হোল সে নিয়ে মাথা ফাটাচ্ছে না। এতো বড় মুশকিলের কথা। কিছুদিন গোরক্ষার কিছু মানুষকে পিটিয়ে মারায় তাদের মুখ পুড়ল।যেখানে সাধারণ ট্রেন ঠিক মত চালাতে পারছে না তো বুলেট ট্রেনের অলীক কল্পনা মানুষ কি বিশ্বাস করে। নোট বাতিল আর জি এস টির ধাক্কায় দেশের অর্থ নীতির হাল বেহাল করে ছেড়েছে। তাই আবার ওই সব ভাঁড় আর জোকারদের নামিয়ে কিছু আকডুম বাগডুম বলে মানুষকে যদি বিভ্রান্ত করা যায়। তাই যাদের মাথায় গোবর আর গোমূত্রে ভর্তি তাদের কথায় মানুষ আর নাচবে না।

কোন মন্তব্য নেই:

যে ডাকাতের নামে স্মৃতিমন্দির আছে।।পরাশর ভট্টাচার্য

নাম তার মান সিং, মান সিং জমিদারের ছেলে, নতুন বইয়ের গন্ধ তার বড়োই প্রিয়,আঙুল দিয়ে দিয়ে প্রতিটি শব্দ সে পড়ে, নতুন শক্ত শব্দ তার দাদু গু...