মঙ্গলবার, ২ অক্টোবর, ২০১৮

পরকীয়া প্রতিবেদন || যাদব কুমার পান্ডে


পরকীয়া নিয়ে আর কিছু লিখব না ভেবেছিলাম। কিন্তু এই একটা ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন ফেসবুক পোষ্টে এত বেশি বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে যে একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে কয়েকটা কথা বলতে চাই। কেউ ভুল ভাববেন না, আমি কাউকে কোন উপদেশ বা জ্ঞান দিচ্ছি না। শুধু সাধারণ মানুষ হিসেবে আমার ভাবনাটা শেয়ার কররে চাই। ভুল হলে অবশ্যই সংশোধন করবেন।

কয়েকদিন ধরে দেখছি এই রায় নিয়ে যে যা খুশি বলছে এবং তার প্রতিক্রিয়াও প্রকাশ করছে অনেকেই নিতান্তই শিশুসুলভ চপলতা প্রকাশের মধ্য দিয়ে। খুব কম মানুষই রায়টি মন দিয়ে পড়েছেন এবং যারা পড়েছেন তারাও হয়ত ঠিকঠাক বুঝতে পারছেন না।
এত 'গেল গেল' রবের কিছু নেই ;একটা বৈষম্যমূলক ধারার বিলোপ ঘটিয়েছে৷
কিছু পয়েন্ট যা মাথায় রাখতে হবে বলে আমার মনে হয় তা একনজরে নিচে লিখলাম।

১)#পরকীয়া কোন মৌলিক চাহিদা নয় #খাদ্য, #বস্ত্র, #বাসস্থান, #শিক্ষা ও #স্বাস্থ্যের মত। অনেক আদিম প্রবনতাকে উপযুক্ত শিক্ষা, বুদ্ধি ও কমনসেন্স এর দ্বারা যেমন নিয়ন্ত্রণ করা যায় এটিকেও নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বস্তুত, এটি জীবনের একটি অতিরিক্ত চাহিদা, স্বাভাবিক চাহিদা নয়৷

২)#পরকীয়া কোন সাংবিধানিকভাবে মৌলিক কর্তব্যও নয়। এটি না করলে রাষ্ট্র বা সমাজ আপনাকে তা করতে বাধ্যও করবে না।

৩)এই রায়ে #মহামান্য_সুপ্রিম_কোর্ট #পরকীয়াকে ইতিবাচক ভাবে #বৈধ বলেনি,পরকীয়া কোন ফৌজদারি অপরাধ নয় সেটি বলেছে। #বৈধ বা #আইনঙ্গত এবং #অপরাধ_নয় ----কথা দুটি কি সমার্থক?

৪)পরকীয়া করার জন্য কোন পুরুষ যদি কোন মহিলাকে  প্রস্তাব দেয় আর মহিলাটি সেই প্রস্তাবে রাজি না হয়ে পুরুষটির বিরুদ্ধে #কুপ্রস্তাব দেওয়ার বা #শ্লীলতাহানির অভিযোগ আনে তাহলে আইনে যা শাস্তি আছে তাই পাবে। এক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের এই রায় অনুযায়ী এটি #বৈধ নয়।

৫)#পরকীয়া করার জন্য কোন পুরুষ যদি কোন মহিলাকে প্রস্তাব দেয় এবং সেই মহিলা তার স্বামীকে ঘটনাটি জানায় তবে সেই স্বামী আর পাঁচজন নাগরিকের মতোই #কুপ্রস্তাব দেওয়া পুরুষটিকে প্রশ্ন করতে পারে। স্ত্রীকে সম্পত্তি না ভেবেও একজন সহ নাগরিক হিসেবে ভেবেও তো তার পাশে দাঁড়াতে পারবে স্বামীটি। ট্রেনে, বাসে ও প্রকাশ্য জায়গায় কোন অপরিচিতা মহিলার #শ্লীলতাহানির বিরুদ্ধে যেভাবে সবাই দাঁড়ায়। এক্ষেত্রেও #শ্লীলতাহানির জন্য চলতি আইনই প্রযোজ্য হবে, সুপ্রিম কোর্টের এই রায় নয়।

৬)#পরকীয়া করার জন্য কেউ যদি কারো বিরুদ্ধে হুমকি, আবেগমূলক হুমকি, ব্ল্যাকমেইল, মানসিক চাপ এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনা বা খুন করলে এই অপরাধগুলির জন্য যা শাস্তির কথা আইনে আছে সেই অনুযায়ীই শাস্তি হবে অপরাধকারীর।

৭)#পরকীয়া সম্পর্কের জেরে পরকীয়ার লিপ্ত যুগলের স্বামী বা স্ত্রী আত্মহত্যা করলে, তার জন্য আত্মহত্যায় প্ররোচিত করার অভিযোগ সেই পরকীয়ায় লিপ্ত যুগলের উপরই বর্তাবে।

৮)সর্বোপরি এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হল যে  #পরকীয়া_বিবাহ_বিচ্ছেদের_কারণ হতে পারে। এটি
 সুপ্রিম কোর্ট রায়ে পরিস্কারভাবে বলেই দিয়েছে
কিন্তু এটাও মনে রাখতে হবে স্বামী বা স্ত্রীর পরকীয়া জানাজানি হওয়ার পরও যদি দুজন পারস্পরিক মীমাংসার মাধ্যমে মিটিয়ে নেয় তবে বিবাহ বিচ্ছেদ নাও হতে পারে। পরকীয়া ধরা পড়ে গেল মানেই আইনত বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে গেল সেটাও নয়। বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য যা আইনি পদ্ধতি আছে তা অনুসরণ না করলে স্বতঃক্রিয় ভাবেই বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যাবে না।

৯)অর্থাৎ #পরকীয়া অপরাধ না হলেও #পরকীয়ার সাথে সম্পর্কিত বিষয়,#পরকীয়ার কারণ এবং ফল অপরাধ হতেই পারে। ব্যাপারটি সেই তোমাকে খুব বড় একটি অট্টালিকা উপহার দিলাম কিন্তু তার চাবিকাঠিটি দিলাম না -----অনেকটা সেই রকম।

১০)যারা মনে করছে এই রায়ের ফলে সমাজে #ব্যভিচার ও #বহুগামিতা বাড়বে তারা একরৈখিক ভাবে দেখছে ব্যাপারটি। আগে #পরকীয়া ধরা পড়লে মহিলাটির স্বামী পরকীয়ায় যুক্ত প্রেমিকটির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করত কিন্তু তার স্ত্রীর সাথে ডিভোর্স এর কথা ভাবত না বা ডিভোর্স চাইলেও স্ত্রী টির অসহযোগিতায় বিবাহ বিচ্ছেদ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারত না। ফলে মামলা চলত,কেউ শাস্তি পেত, কেউ পেত না। কিন্তু মহিলাটির বিরুদ্ধে কোন আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ছিল না ঐ আইনে তাই মহিলাটি ইচ্ছা করলে আবার দ্বিতীয় কোন পুরুষের সাথে পরকীয়ায় লিপ্ত হতে পারত।  এই রায়ের ফলে ফৌজদারি মামলা করতে না পেরে স্বামীটি শেষ পন্থা হিসেবে বিবাহ বিচ্ছেদই বেছে নিবে এবং এই রায়ের বলে অনায়াসে বিবাহ বিচ্ছেদ করতেও পারবে। ফলত, বিবাহ বিচ্ছেদ চায় না এরকম মহিলাদের মধ্যে একটা ভীতি কাজ করবে এবং সে পরকীয়া থেকে আগের চেয়ে বেশি বিরত থাকার চেষ্টা করবে। অর্থাৎ, বিবাহ বিচ্ছেদ কমবে। একদিকে  পরকীয়ার উপর নিয়ন্ত্রণ যেমন বাড়ছে অন্যদিকে বৈবাহিক সম্পর্ক টিকে থাকার সম্ভাবনাও বাড়ছে। তাহলে তা কার্যত এই রায় সমাজে ব্যভিচার ও বহুগামিতাকে নিয়ন্ত্রণই করবে।

শেষে বলি এই রায়ের গুরুত্বপূর্ন মাত্রা হচ্ছে যে বছর বছর ধরে স্বামীরা তাদের স্ত্রীদের সম্পত্তি হিসেবে দেখত সেই রক্ষণশীল ও পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার মূলে কুঠারাঘাত করা হল। আবার পরকীয়ায় লিপ্ত পুরুষরাই শুধু শাস্তি পেত সেটারও অবসান হল।
অতএব লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যের মত একটা জগদ্দল পাথর যে এই রায়ের ফলে সরে গেল তা একদম পরিস্কার।

কোন মন্তব্য নেই:

শবর কথা || বিপ্লব দাস

কচি সেগুনপাতা ঘষলে রক্তের মতো লাল রস বের হয়। এরকম এক লোককথার সাথে শবরদের অরণ্যে বাস করার কাহিনী জড়িয়ে রয়েছে। শবর এবং অসুরদের স্বর্ণয...